প্রাইভেট মার্কেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের তুমুল উত্থানের মধ্যেই নতুন এক আর্থিক কেলেঙ্কারির চিত্র ফুটে উঠেছে। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দায়ের করা মামলায় অভিযোগ, নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডভিত্তিক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১০০ জনেরও বেশি এজেন্ট নিয়ে হাজার হাজার ফোন কল করে অবসরপ্রাপ্তসহ শত শত বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে।
গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা অভিযোগপত্রে এসইসি জানিয়েছে, প্রাক্তন ব্রোকার অ্যান্ড্রু স্প্যাভেন্তার নেতৃত্বাধীন দ্য স্প্যাভেন্তা গ্রুপ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি স্পেসএক্স, অ্যানথ্রপিক, পারপ্লেক্সিটি এবং আন্দুরিলের মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করত। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হতো যে, কোনো 'অপ্রয়োজনীয় ফি' ছাড়াই এই শেয়ার কেনা যাবে।
তবে এসইসির অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রতিশ্রুতির পুরোটাই প্রতারণা ছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে চার বছরে লং আইল্যান্ড এবং নিউ জার্সির অফিস থেকে পরিচালিত ১১টি প্রাইভেট ফান্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৭৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। এই অর্থ জমা পড়েছে ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির কাছ থেকে, যাদের মধ্যে ৬৫০ জনের বেশি বিনিয়োগকারী এক লাখ ডলারের কম বিনিয়োগ করেছেন এবং শতাধিক ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের তুলনায় স্প্যাভেন্তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান শেয়ার কেনার সময় যে মূল্য পরিশোধ করেছিল, তার গড়ে ৪৬ শতাংশ বেশি দামে বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত মূল্য ৯১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এসইসির দাবি, বিনিয়োগকারীরা এই বিশাল মার্কআপ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে ফরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রি-আইপিও শেয়ার বিক্রির প্রতারণার অভিযোগে এসইসির আগের একটি মামলায় জিওভান্নি পেনেট্টার বিরুদ্ধে আন্দুরিলের মতো কোম্পানির জাল শেয়ার বিক্রি করে এক কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল। পেনেট্টা পরে ওয়্যার ফ্রডের একাধিক অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তবে স্প্যাভেন্তার মামলায় জড়িত অর্থের পরিমাণ এবং বিনিয়োগকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এটি নতুন মাত্রার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
ফরচুনের সাথে ফোনে আলাপকালে অ্যান্ড্রু স্প্যাভেন্তা এসইসির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে এই মামলার ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রাইভেট মার্কেটে বিনিয়োগের এই উন্মাদনা নিয়ে এসইসির তদন্ত এখানেই শেষ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় প্রাইভেট মার্কেটে বিনিয়োগের চাহিদা ও অনিয়মের এই জটিল জাল নিয়ে আগামী দিনে আরও নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




