আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেডি ভ্যান্সের অবস্থান দিন দিন সুসংহত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে আগে তিনি ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানতে চাইতেন তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে জেডি নাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপযুক্ত হবেন। কিন্তু বর্তমানে সেই মনোভাবে পরিবর্তন এসেছে।
ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ এক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, এখন আর তিনি প্রশ্ন করেন না ‘জেডি নাকি মার্কো?’; বরং নিজের থেকেই বলছেন, ‘জেডিকে তো দারুণ লাগছে, তাই না?’। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ এক উপদেষ্টার মতে, জেডি নিজের যোগ্যতার জোরেই এই অবস্থানে পৌঁছাচ্ছেন এবং ট্রাম্পও তা দেখছেন। সেই উপদেষ্টা আরও জানান, রুবিও যেহেতু আগেই প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করেননি, তাই এখন সেই সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে এসেছে।
ভ্যান্সের শক্তির মূল উৎস প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের কাছে তাঁর সহজ প্রবেশাধিকার রয়েছে, যা নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা এনে দেয়। এই সম্পর্কের জোরেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের রানিং মেট হিসেবে ভ্যান্সকে বেছে নেওয়ার পেছনে ডানপন্থী বিনিয়োগকারী পিটার থিয়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের এই ঘনিষ্ঠতা ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই ফেলতে পারে। বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালির ধনকুবেরদের ওপর নতুন কর আরোপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা—এমন ইস্যুতে ভ্যান্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে ভ্যান্স দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের জন্য অনেক ভোটার এই সংঘাতকে দায়ী করছেন। গত মাসে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে ট্রাম্প মজা করে বলেছিলেন, এটি ব্যর্থ হলে দোষ তিনি ভ্যান্সের ঘাড়ে চাপাবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠজনের সম্পর্ক সহজেই বদলে যেতে পারে, ফলে আগামী দুই বছরে যে কোনো কারণেই ভ্যান্স তাঁর আস্থার বাইরে চলে যেতে পারেন।
এদিকে ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত ভ্যান্স সম্প্রতি পোপের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধে জড়িয়েছেন, যা ট্রাম্পের খ্রিষ্টান সমর্থকদের একটি অংশকে বিমুখ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনলাইনে প্রায়ই তাঁর বিকৃত ছবি শেয়ার করে বিদ্রুপ করা হলেও, তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভ্যান্সের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। নিহত রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা কার্ক প্রকাশ্যে ভ্যান্সকে সমর্থন দিয়েছেন, যা টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ–র মাধ্যমে তরুণ রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ভ্যান্স নিজে এখনই ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান লক্ষ্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা। আগামী বছর ভালো কাজ করতে পারলে পরে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বেশ কিছু শক্তিশালী দিক থাকলেও তিনি ভ্যান্সের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। কিউবার সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে চলা আলোচনায় তাঁর সফল ভূমিকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ফ্লোরিডার কিউবান প্রবাসী সম্প্রদায়ের কাছে। স্প্যানিশভাষী লাতিনো ও কিউবান অভিবাসীর সন্তান হিসেবে রুবিও ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে দূরে সরে যাওয়া কিছু ভোটারকে ফিরিয়ে আনতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্স বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তাঁর পথ এখনই কঠিন বলে মনে হচ্ছে।




