নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামে বক ও শালিক পাখি শিকার ও জবাই করার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন ব্যক্তি একটি বিল এলাকায় ফাঁদ পেতে পাখিগুলো ধরে জবাই করে একটি তালগাছের নিচে স্তূপ করে রেখেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গত ১৯ জুলাই খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই দিন বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন এবং সজিব হোসেন নামের চার ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জবাই করা পাখির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ বলে ধারণা করা হচ্ছে। জবাই শেষে পাখিগুলো বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ভিডিওটি ধারণ করা হয় গত রোববার (১৯ জুলাই) হাটবিলা বিল থেকে। তবে তা আজ শনিবার (২৫ জুলাই) প্রথমবারের মতো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, পাখি শিকার ও জবাই করার সময় আরও কিছু লোক উপস্থিত থাকলেও কেউ বাধা দেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মহির উদ্দিন বলেন, সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে এত পাখি মারলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফাঁস জাল দিয়ে মারা পাখিগুলো জড়িত ব্যক্তিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে পাখি হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং কেউ কেউ তাদের 'দেশের শত্রু' বলে আখ্যা দিয়েছেন। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার খবর শুনেছেন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল এমরান খাঁন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, শালিক ও বক প্রকৃতির বন্ধু। এ ধরনের পাখি হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিপ্লব তালুকদার ও আশিক হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।