হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার মাঝেই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে অর্থনীতির ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান খামেনিকে জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, যিনি বাস্তববাদী শিবিরের সদস্য, তিনি অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটজনক উল্লেখ করে সমঝোতা স্মারক অনুমোদিত না হলে পদত্যাগের হুমকি দেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এক চিঠিতে সতর্ক করেন, দেশ গুরুতর বাজেট সংকটের মুখোমুখি এবং বিকল্প বাণিজ্য পথে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল বিক্রি অসম্ভব। আগস্টের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ শেষ হয়ে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। এই কঠিন বাস্তবতা বিবেচনা করেই খামেনি নীতিগতভাবে বিরোধিতা সত্ত্বেও সমঝোতা স্মারকে সম্মতি দেন। তবে এখনো চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা করার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আগের দফায় ১৩৯টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছিল এবং নয়টি জাহাজকে অকার্যকর করে দিয়েছিল। এই অবরোধ ইরানের তেল রাজস্বের প্রধান উৎস বন্ধ করে দিয়ে অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে। ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আলপাইন ম্যাক্রোর ড্যান আলামারিউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালী খোলার চেষ্টা করতে পারে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবরোধ আরও জোরদার করাই সহজ পথ, যতক্ষণ না সমঝোতা স্মারক পুনঃনিশ্চিত হয়। তার মতে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি সম্ভব, তবে তার আগে আরও সংঘাত বা ব্যাপক অবরোধ বাড়তে পারে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো রবিন ব্রুকস আরও কঠোর অবরোধের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার অবরোধে খালি ট্যাংকারগুলোকেও উপসাগরে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং ইরানের তেল রপ্তানি টার্মিনাল অকার্যকর করে দেওয়ার। তার মতে, এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে নিলে অবরোধ আরও কার্যকর হবে। সমঝোতা স্বাক্ষরের পর ইরান জমে থাকা তেল বিক্রি করে কিছুটা রাজস্ব পেয়েছে, যা তার পরিকাঠামোর ওপর চাপ কমিয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল এবং তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করে দিয়েছে মার্কিন নৌ-অবরোধ: খামেনির কাছে স্বীকারোক্তি প্রেসিডেন্ট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানের
মার্কিন নৌ-অবরোধে ইরানের অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে বলে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে খামেনি হরমুজ প্রণালী খোলার সমঝোতায় সম্মতি দেন। উত্তেজনা ও চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।




