চলচ্চিত্র জগতে বড় পর্দার অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে আনতে প্রিমিয়াম লার্জ ফরম্যাট (পিএলএফ) স্ক্রিন এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ক্রিস্টোফার নোলানের সাম্প্রতিক মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইউনিভার্সাল পিকচার্স দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের জানিয়েছে যে নোলান পুরো ছবিটি আইম্যাক্স ফিল্ম ক্যামেরায় শুট করেছেন, যা একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্রের জন্য প্রথম। এমনকি ছবি মুক্তির এক বছর আগেই আইম্যাক্স ৭০মিমি স্ক্রিনিংয়ের টিকিট বিক্রি শুরু হয়।

ফলাফল ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তর আমেরিকার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে আসা দর্শকদের অর্ধেকই একটি প্রিমিয়াম বড় পর্দা বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ শতাংশ আইম্যাক্স বেছে নিয়েছেন। বিশ্বব্যাপী ‘দ্য ওডিসি’ আইম্যাক্স থেকে আয় করেছে ৮১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার, যেখানে মোট আয় ছিল ২৬৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

আইম্যাক্স, ডলবি সিনেমা, ফোরডিএক্স এবং স্ক্রিনএক্স-এর মতো প্রিমিয়াম ফরম্যাটগুলো এখন থিয়েটার খাতে ব্যয়ের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ দখল করে নিচ্ছে। এগুলো দর্শকদের এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয় যা বাড়ির সাধারণ টেলিভিশনে পাওয়া সম্ভব নয়। মহামারি-পরবর্তী সময়ে আইম্যাক্সের দেশীয় বক্স অফিসে অংশীদারিত্ব প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যদিও এটি মোট সিনেমা স্ক্রিনের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। স্ক্রিনএক্স ও ফোরডিএক্স ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রেকর্ড আয় করেছে — দেশীয় বাজারে একত্রে ৭০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। স্ক্রিনএক্সের দেশীয় বক্স অফিস ৫৫ শতাংশ বেড়েছে।

দর্শকরা সিনেমা হলে যেতে এখন আরও নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু যখন বড় কোনো ছবি বাড়িতে না পাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দেয়, তখন তারা বেশি টাকা দিতেও রাজি। এই প্রবণতা জেন জেড প্রজন্মের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে, যারা ভাগাভাগি করা অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেয়। হলিউড এখন পিএলএফ প্রচারের মাধ্যমে দর্শক টানতে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছে।

স্টিমিং পরিষেবা সাধারণ সিনেমা দেখাকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে, যার ফলে দর্শকদের হল পর্যন্ত আনতে বাড়তি কিছু দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। আইম্যাক্স বিশাল পর্দা ও বিশেষায়িত প্রক্ষেপণ ব্যবস্থা সরবরাহ করে। ডলবি সিনেমা ডলবি ভিশন প্রক্ষেপণের সঙ্গে ডলবি অ্যাটমস সাউন্ড যুক্ত করে। স্ক্রিনএক্স পর্দার ছবি পাশের দেয়ালেও প্রসারিত করে, আর ফোরডিএক্স নড়াচড়া করা আসন ও পরিবেশগত প্রভাব যোগ করে।

দর্শকরা এই অভিজ্ঞতার জন্য বেশি দাম দিতে রাজি, যা প্রদর্শকদের টিকিটপ্রতি আয় বাড়ানোর সুযোগ দেয়। ২০২৪ সালে প্রিমিয়াম ফরম্যাটের টিকিট উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল, যা ২০১৯ সালে ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।

হলিউড এখন সিনেমাগুলোকে আইম্যাক্স ক্যামেরা, বর্ধিত আকৃতির অনুপাত, ৭০মিমি উপস্থাপনা, ডলবি সাউন্ড এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বিপণন করছে। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ এটির সেরা উদাহরণ, যেখানে ফরম্যাট নিজেই টিকিট কেনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। ‘আইম্যাক্সে ধারণকৃত’, ‘ডলবি সিনেমায় অভিজ্ঞতা নিন’ — এই ধরনের বার্তা দর্শকদের স্টিমিংয়ের জন্য অপেক্ষা না করার নির্দিষ্ট কারণ দেয়।

ফলস্বরূপ, আইম্যাক্স এখন শুধু শো টাইমের পাশে লেখা একটি শব্দ নয়, বরং একটি স্বীকৃত ভোক্তা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। দর্শকরা নির্দিষ্ট উপস্থাপনা খুঁজে বেড়ান, আইম্যাক্স ৭০মিমি ও ডিজিটাল আইম্যাক্স এবং ডলবি সিনেমার মধ্যে তুলনা করেন এবং কখনো কখনো নির্দিষ্ট থিয়েটারে ভ্রমণ করেন। ‘দ্য ওডিসি’-র সময় আইম্যাক্স ৭০মিমি-র কিছু শোতে মধ্যরাত ও ভোর ৩টার স্ক্রিনিংও বিক্রি হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে যে উপস্থাপনার ফরম্যাট নিজেই চাহিদা তৈরি করতে পারে।

শক্তিশালী চাহিদা থিয়েটারগুলোকেও আরও প্রিমিয়াম স্ক্রিনে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। প্রদর্শকরা আইম্যাক্স ও অন্যান্য মালিকানাধীন পিএলএফ স্থাপন ও উন্নত করছেন, যা স্টুডিওগুলোকে সেই স্ক্রিনগুলোর জন্য অপ্টিমাইজ করা ছবি তৈরিতে উৎসাহিত করছে। আরও পিএলএফ-বান্ধব ছবি দর্শকদের প্রিমিয়াম টিকিট কেনার আরও কারণ দিচ্ছে।

আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালের বাকি আইম্যাক্স স্লেটে রয়েছে ‘দ্য ডগ স্টারস’, ‘রেসিডেন্ট ইভিল’, ‘স্ট্রিট ফাইটার’, ‘গডজিলা মাইনাস জিরো’ এবং ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’। ২০২৭ সালের পাইপলাইনে রয়েছে ‘গডজিলা এক্স কং: সুপারনোভা’, ‘দ্য লিজেন্ড অব জেল্ডা’, ‘স্টার ওয়ার্স: স্টারফাইটার’, ‘স্পাইডার-ম্যান: বিয়ন্ড দ্য স্পাইডার-ভার্স’, ‘দ্য ব্যাটম্যান: পার্ট টু’, ‘অ্যাভেঞ্জারস: সিক্রেট ওয়ার্স’ ও ‘ফ্রোজেন ৩’-এর মতো বড় ছবি। স্টুডিওগুলো প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা বিক্রির নতুন উপায়ও তৈরি করছে। মার্ভেল চালু করেছে ‘ইনফিনিটি ভিশন’, যেখানে ‘অ্যাভেঞ্জারস: ডুমসডে’-র টিকিট শুধুমাত্র ইনফিনিটি ভিশন-সার্টিফাইড থিয়েটারের জন্য বিক্রি হচ্ছে।

সবমিলিয়ে, হলিউড সিনেমা দেখাকে আবার একটি ‘ইভেন্ট’-এ পরিণত করতে বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, পর্দার প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যই এখন দর্শক টানার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।