সৌদি আরব তাদের পর্যটন খাতের অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি 'প্যাকেজ ভিসা' নামে একটি ডিজিটাল সেবা চালু করেছে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ট্যুর বুকিং ও ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে সম্পন্ন করার সুযোগ করে দেবে। মরুভূমির দেশটি এখন ধর্মীয় পর্যটনের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অবকাশ ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক ভ্রমণের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই রূপান্তরের মূল চালিকা শক্তি সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি (এসটিএ)। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা ও ভ্রমণ প্যাকেজের মাধ্যমে সৌদিকে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ৩৮টি দেশে ১৬টি প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসটিএ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ধারাবাহিকতায় প্যাকেজ ভিসা একটি নতুন সংযোজন, যা পর্যটকদের জন্য সৌদি সফরকে আরও সহজ ও সমন্বিত করবে।
প্যাকেজ ভিসার আওতায় ভ্রমণকারীরা আলাদাভাবে ফ্লাইট, আবাসন ও ভিসার ব্যবস্থা না করে পুরো প্যাকেজ একসঙ্গে বুক করতে পারবেন। এছাড়া নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম ও ট্যুর অভিজ্ঞতাও যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশসহ নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে এই সেবা চালু হয়েছে। ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত পরিসরে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল খাতিব জানিয়েছেন, পর্যটন খাতের দ্রুত বিকাশের পথে প্যাকেজ ভিসা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, ট্যুর বুকিংয়ের সঙ্গে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে যুক্ত করার মাধ্যমে পর্যটকদের পুরো ভ্রমণ যাত্রা আরও নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার হবে এবং সৌদিকে সহজে ভ্রমণযোগ্য বিশ্ব গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে এই উদ্যোগ।
শুধু পর্যটকদের জন্যই নয়, অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুর অপারেটরদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এই ভিসা ব্যবস্থা। তারা আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ তৈরি, গ্রাহকসেবা উন্নত করা এবং পর্যটকদের দীর্ঘকালীন অবস্থান নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে। তবে প্যাকেজ ভিসা শুধুমাত্র সেইসব অপারেটরদের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে, যারা নির্ধারিত সেবার মান পূরণ করে এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা প্রদান করে থাকে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন। প্যাকেজ ভিসা এই ধারাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছে সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি। ই-ভিসা, ভিসা অন অ্যারাইভাল ও স্টপওভার ট্রানজিট ভিসার পর এই নতুন উদ্যোগ সৌদি আরবকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




