ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সবকিছু 'দারুণভাবে' এগোচ্ছে। তার ভাষ্যে, 'ইরানের সঙ্গে সবকিছু খুবই ভালো চলছে, একেবারে দারুণভাবে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে; অন্য কারও হাতে নয়, শুধু আমাদেরই। আমাদের নৌবাহিনী অবিশ্বাস্য শক্তিশালী, আর আমাদের দেশের জন্য সবকিছুই ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।'

তবে ইরানের ওপর আস্থা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমি ইরানকে বিশ্বাস করি না। ইরানকে বিশ্বাস করবে, এমন সর্বশেষ ব্যক্তি হব আমি। তারা আমাকে বারবার মিথ্যা বলেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে; তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।' অন্যদিকে, দুই দেশই প্রণালি ঘিরে সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার চেষ্টা করছে বলে জানা যাচ্ছে। মার্কিন এক সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

যদি হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথটি আবার উন্মুক্ত হতে পারে এবং প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা অস্থিরতার অবসান ঘটতে পারে। বর্তমানে ওমান ও ইরানের মধ্যে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রণালিটির ঠিক বিপরীত পাশে ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালালে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। পরবর্তীতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে দুই দেশ আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করলে ইরান পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়।

হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও কিছুটা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ৭২ সেন্ট বা ০.৮১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৯.৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭১ সেন্ট বা ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩.৯১ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ, তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।