জাপানের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা হোন্ডা মোটর কোং তাদের চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল ঘোষণা করেছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৪৫৬.৯ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১৯৬.৬ বিলিয়ন ইয়েন।

প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক বিক্রয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে অ্যাকর্ড সেডান, ফিট সাবকম্প্যাক্ট এবং সুপার কাব মোটরসাইকেলের মতো মডেলগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি ১৩.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.০৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার)।

এই সাফল্যের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন। প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার আগের বছরের তুলনায় কম থাকায়, হোন্ডার মতো রপ্তানিকারক কোম্পানির জন্য এটি লাভজনক হয়েছে। বিদেশি আয় যখন ইয়েনে রূপান্তরিত হয়, তখন তার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে, হোন্ডার মোটরসাইকেল বিভাগ অত্যন্ত লাভজনক ছিল। ব্রাজিল ও ভারতের বাজারে বিক্রি শক্তিশালী থাকায় এই খাত থেকে ভালো আয় এসেছে। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি বিক্রিও বেড়েছে, যদিও চীনের বাজারে কিছুটা সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

প্রধান অর্থবিষয়ক কর্মকর্তা মাসাও কাওয়াগুচি জানিয়েছেন, চীনা ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় মডেল সরবরাহের জন্য কাজ করছে হোন্ডা। চীনের বাজারের চাহিদা অন্যান্য বাজার থেকে ভিন্ন হওয়ায় সেখানে উপযুক্ত পণ্য আনতে আরও এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কাওয়াগুচি বলেন, "এজন্য আমাদের অবশ্যই সেই বাজারে নিজস্ব সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে।"

উল্লেখ্য, মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে হোন্ডা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরো বছরের লোকসান দেখিয়েছিল। ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) পরিকল্পনায় বিপুল অঙ্কের ব্যয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে কোম্পানিটি। ট্রাম্প প্রশাসন ইভির জন্য প্রণোদনা কর্মসূচি কমিয়ে দেয় এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনে রাজ্যগুলোর জন্য বরাদ্দ আটকে রাখে। এছাড়া আমদানি করা গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা শুল্কও হোন্ডার লাভজনকতাকে প্রভাবিত করেছিল। অনেক গ্রাহক এখনও বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকতে প্রস্তুত নন বলেও বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।

এই প্রান্তিকের সাফল্যের পর হোন্ডা চলতি অর্থবছরের জন্য তাদের মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। আগে ২৬০ বিলিয়ন ইয়েন (১.৬ বিলিয়ন ডলার) পূর্বাভাস দেওয়া হলেও, তা সংশোধন করে ৪০০ বিলিয়ন ইয়েন (২.৫ বিলিয়ন ডলার) করা হয়েছে।

তবে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুমামোটোতে গত সপ্তাহের ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। কিছু উৎপাদন লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়। কোম্পানির কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী মাসের গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে ভূমিকম্পের কারণে গাড়ি উৎপাদনে সঠিক প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়।

ফলাফল প্রকাশের পর টোকিও শেয়ারবাজারে হোন্ডার শেয়ারের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়েছে।

ফরচুন ডটকমে এই খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয়।