ভারতের চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট প্রকাশ করে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন মালয়ালম অভিনেত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপক ও ইনফ্লুয়েন্সার পার্ল মানি। গত ২৪ জুলাই ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করেন তিনি, যেখানে আন্দোলনকে ‘মর্মান্তিক’ ও ‘ব্যথিতকর’ বলে উল্লেখ করেন। পোস্টটি প্রকাশের সময় তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ। মাত্র দু'দিনের ব্যবধানে, ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ২৪ লাখে, অর্থাৎ তিন লাখের বেশি অনুসারী হারিয়েছেন তিনি। শুধু ইনস্টাগ্রামই নয়, ফেসবুক ও ইউটিউবেও তার অনুসারী কমেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
পোস্টে পার্ল মানি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘আমি শুধু ভেবেছিলাম—অনুগ্রহ করে কেউ আহত হয়ো না, নিরাপদে থাকো। যদি মনে হয় জীবন বিপদে, তাহলে বাড়ি ফিরে যাও। যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে একটি প্রাণ অনেক বেশি মূল্যবান।’ একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষাব্যবস্থার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আশা করি, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় শিক্ষার্থীরা এবং তারা যে ভবিষ্যৎ চায়, সেটিই থাকবে।’ পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কমেন্ট সেকশন আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিফলন।’ তবে সমালোচনা বেড়ে যাওয়ায় পরে তিনি মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেন। তার অন্য পোস্টগুলোতে সমালোচনামূলক মন্তব্য অব্যাহত রয়েছে।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করে লেখেন, ‘আপনি বোঝেন না চাপ কী, কারণ আপনি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছেন। আমরা তা নই। প্রতিটি সুযোগ, প্রতিটি নম্বর আর ভালো ভবিষ্যতের জন্য আমাদের লড়তে হয়।’ আরেকজন লেখেন, ‘মন্তব্যের জায়গা বন্ধ না করে পোস্টটাই মুছে ফেলুন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও মন্তব্যের সুযোগ কেন বন্ধ?’
সমালোচনার মুখে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পার্ল আরেকটি পোস্ট দেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। সেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করে এক ‘ব্যর্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা’কে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে আমার পোস্টের সঙ্গে ট্রিগার ওয়ার্নিং দেওয়া উচিত ছিল! আমি শান্তি, নিরাপত্তা আর অহিংসার কথা বলেছি, সেটাই এত মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। একজন ব্যর্থ নির্মাতা আমার চার পাতার পোস্ট নিয়ে ১০ পাতার চিত্রনাট্য লিখছেন। আরও ঝাল-মসলা মিশিয়ে সেটাকে যতটা সম্ভব অস্বাস্থ্যকর বানানোর চেষ্টা করছেন।’ আরেকটি স্টোরিতে তিনি লেখেন, ‘আর হ্যাঁ, আমার সবচেয়ে প্রিয় রং গেরুয়া। বিশেষ করে ভারতের জাতীয় পতাকায় এই রংটি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।’
পার্লের এই মন্তব্যের জবাবে প্রতিক্রিয়া জানান মালয়ালমের খ্যাতিমান নির্মাতা সিবি মালয়িলের ছেলে জো মালয়িল। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘যে “ব্যর্থ নির্মাতা”র কথা বলছেন, তিনি আমার বাবা। কার সঙ্গে কথা বলছেন, আগে সেটা জেনে নিন। আপনার ৫৭ লাখ অনুসারীর কাছে চার পাতার বক্তব্য পড়ার আশা করেন, অথচ সাতটি স্লাইড পড়তে আপনারই কষ্ট হয়? যেহেতু আপনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত করেছেন, তাহলে খেলাও শুরু হোক।’ এর আগেও জো তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্লের অবস্থানের সমালোচনা করে একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করেছিলেন।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় তুমুল আলোচনা চলছে। এক পক্ষ পার্লের শান্তি ও অহিংসার আহ্বানকে সমর্থন করলেও অন্য পক্ষের অভিযোগ, তার বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বাস্তবতা ও ক্ষোভকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করেনি। সমালোচনার জেরে ইনস্টাগ্রামে কয়েক লাখ অনুসারী হারানো এবং মন্তব্য বন্ধ করে দেওয়া—এই দুই ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অবলম্বনে এ তথ্য জানা গেছে।




