আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য প্রদানকালে প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুল নাসির উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা লক্ষ্যবস্তু ছাড়াই গুলি ছোড়ে। গুলি শুরু হলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং সেই মুহূর্ত থেকে বন্ধু সামিদকে আর খুঁজে পাননি। পরে হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পান তিনি। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্য দেন নাসির উদ্দিন।
জবানবন্দিতে নাসির উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গী থেকে তিনি, সামিদসহ চার-পাঁচজন বন্ধু ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে রওনা হন। বেলা দুইটার দিকে তারা উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় পৌঁছান। সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর সামিদকে খুঁজে না পেয়ে তার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। বিকেল পাঁচটার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এসে তাকে উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সামিদকে পাওয়া যায়। সামিদের কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।
রক্তাক্ত অবস্থায় সামিদকে দেখে নাসির উদ্দিন তার বাবাকে খবর দেন। তখন সামিদের বাবা উত্তরায় বিজয় মিছিলে অংশ নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসে তিনি দেখেন, তার ছেলে মারা গেছে। নিহত সামিদের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এবং বর্তমানে নাসির উদ্দিন নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছেন। আন্দোলনের সময় তিনি টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থান করতেন।
জবানবন্দিতে নাসির উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদের নির্দেশনায় পলক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ড ও গুমের তথ্য বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে না দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক সেদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ পলাতক রয়েছেন।




