বলিউডের চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের ছেলে অভিনেতা-নির্মাতা সোহেল খান সম্প্রতি এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। চলতি বছরের গোড়ার দিকে মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণের পর সেলিম খানকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। কিছুকাল পর সেই সংকটময় দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সোহেল খান জানান, তাঁর বাবা কিছু সময়ের জন্য সেমিকোমায় চলে গিয়েছিলেন এবং পুরো পরিবার এক চরম ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।

রিয়ালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’–এ সহপ্রতিযোগী দেলবার আর্যের সঙ্গে কথা বলার সময় সোহেল বলেন, হাসপাতালে বাবার পাশে ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা পরিবারটিকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং সেলিম খানকে বাঁচানো নাও যেতে পারে। সোহেলের ভাষ্যে, ‘চিকিৎসক আমাদের সরাসরি বলেছিলেন, বাবাকে হয়তো আমরা হারাতে পারি। কথাটা শুনে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। বাবা আর মা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। বাবার কিছু হয়ে গেলে আমি কীভাবে স্বাভাবিক জীবন কাটাতাম, সেটাই কল্পনা করতে পারিনি।’ বাবা অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে তাঁর ভাই সালমান খানও শুটিং ছেড়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন।

বর্তমানে জীবনের অগ্রাধিকার বদলে যাওয়ার কথাও জানান সোহেল। তিনি বলেন, ‘সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার’— এই বিশ্বাস থেকে এখন তিনি বেশিরভাগ সময় বাবা-মায়ের সঙ্গেই কাটানোর চেষ্টা করেন। তাঁর কথায়, সন্তানেরা এখনো ছোট হওয়ায় ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকলেও, বয়োবৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে যতটা সম্ভব সময় দেওয়াই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।

একই অনুষ্ঠানে সোহেল খান রিয়ালিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’–এ যোগ দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাই সালমান খানকে রিয়ালিটি শো সঞ্চালনা করতে দেখে তিনি মনে করতেন, এসব অনুষ্ঠানের শক্তি, মানসিক চাপ ও নাটকীয়তা তাঁর জন্য নয়, বরং এটি সালমানের জায়গা। কিন্তু ‘অ্যালায়েন্স’ ভিন্ন ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বদলে বুদ্ধি, কৌশল ও পরিকল্পনার খেলাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়— এই চ্যালেঞ্জই তাঁকে টেনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সোহেল খান কেবল অভিনেতাই নন, একজন সফল পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও বলিউডে তাঁর অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৯৭ সালে ‘ওজার’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক ঘটে তাঁর। পরবর্তীতে ‘পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’ ও ‘হ্যালো ব্রাদার’-এর মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। অভিনেতা হিসেবে দেখা গেছে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া’, ‘ফাইট ক্লাব’, ‘হিরোজ’ ও ‘টিউবলাইট’-এর মতো ছবিতে। বর্তমানে সেলিম খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।