শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান নিয়ে গত ১৬ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ তোলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। ওই গ্রুপে মন্তব্য করায় দুই দিন পর ১৮ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান তাকে হুমকি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাইরুলের দাবি, ‘খাবারের মান ভালো না’ বলায় হাসিবুর ও তারেক তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ‘থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দেব’ বলে হুমকি দেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। মিছিলে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মিছিলটি গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে চেতনা-৭১ স্থাপনা ও নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবন ঘুরে আবার গোলচত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা এ সময় ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল শেষে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ হোসেন বলেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো সহপাঠীকে আর প্রকাশ্যে মার খেতে দেখতে চাই না। সন্ত্রাস দমন এখন জরুরি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচারে বিলম্ব হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।’ অর্থনীতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার বিন ছলিম বলেন, ‘প্রশাসনকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই সময় শেষ হবে। ন্যায়বিচার না পেলে আমরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করব।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কারসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনকে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বিচার না হলে আগামী দিনে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।




