এনভিডিয়ার অন্যতম প্রধান চিপ সরবরাহকারী দক্ষিণ কোরীয় সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার থেকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে বলে জানা গেছে। এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে, যা প্রযুক্তিখাতের আইপিওগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় হবে।
এর আগে গত ১২ জুন এলন মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স নাসডাকে তালিকাভুক্ত হয়। স্পেসএক্সের আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়, যা আর্থিক বাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার 'এসপিসিএক্স' টিকার নামে নাসডাক গ্লোবাল সিলেক্ট মার্কেটে লেনদেন শুরু করে।
এসকে হাইনিক্স মূলত উচ্চ-ব্যান্ডউইথ মেমরি (এইচবিএম) উৎপাদনের জন্য পরিচিত। তারা ডিআরএএম এবং ন্যান্ড ফ্ল্যাশ স্টোরেজ চিপ তৈরি করে, যা সলিড-স্টেট ড্রাইভে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে তাইওয়ানের টিএসএমসি লজিক চিপ তৈরি করলেও এসকে হাইনিক্স মূলত মেমরি চিপেই বিশেষায়িত।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক ড্যান আইভস এক ইমেইল বার্তায় জানিয়েছেন, এসকে হাইনিক্সের নাসডাকে তালিকাভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত এআই বাণিজ্যের ইতিবাচক নির্দেশক। তাঁর মতে, কোরিয়ার চিপ কোম্পানিগুলো এখন প্রযুক্তি বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে এবং এআই বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে।
অন্যদিকে মর্নিংস্টারের ইক্যুইটি বিশ্লেষক জিং জিয়ে ইউ মনে করেন, এসকে হাইনিক্সের যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্তি নিজে থেকে বাজারের অবস্থার স্পষ্ট পরিমাপক নয়। তবে তিনি বলেন, এই আইপিও মার্কিন ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কারণ এটি কোরিয়ান স্টকে সহজ প্রবেশাধিকার দেবে যা আগে সম্ভব ছিল না।
মর্নিংস্টার ১ জুলাই এক নোটে এসকে হাইনিক্সের ন্যায্যমূল্য অনুমান বাড়িয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান মেমরি আপসাইকেল প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলেও শিল্পটি চক্রাকার থাকায় শেয়ারের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় উপরের দিকে সম্ভাবনা সীমিত। মর্নিংস্টার দেখছে, এসকে হাইনিক্সের শেয়ার এখনও প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রন টেকনোলজির তুলনায় ছাড়ে ট্রেড করছে।
ফরচুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসকে হাইনিক্সের কোরিয়ায় তালিকাভুক্ত শেয়ারের দাম গত ১২ মাসে প্রায় ৭৭০ শতাংশ বেড়েছে। জুন মাসের শীর্ষ থেকে ২০ শতাংশ কমে এলেও এই উত্থান মাইক্রন টেকনোলজির প্রায় ৭০০ শতাংশ উত্থানকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এসকে হাইনিক্সের আত্মপ্রকাশ প্রযুক্তিখাতের পরবর্তী বড় আইপিও তরঙ্গের জন্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষের দিকে বড় বড় প্রযুক্তি ও এআই কোম্পানির আইপিওর একটি বিস্তৃত ধারা আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জেনারেল আটলান্টিক তাদের '২০২৬ আইপিও কামব্যাক' শীর্ষক জুনের এক নোটে দ্বিতীয়ার্ধকে এমন একটি সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে যখন মূল্যায়ন ছাড় কমতে পারে, মিড-ক্যাপ এবং কম প্রতিনিধিত্বশীল খাত বাজারে ফিরে আসতে পারে এবং বিনিয়োগকারীরা মেগা-ডিল থেকে লাভ কম ভিড়যুক্ত এলাকায় সরিয়ে নিতে পারে।




