শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ঘুরে বেড়ানো তিনটি গরু সোমবার আটক করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় গরুগুলো যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি, বাজারের সবজি নষ্ট এবং বাসাবাড়ির ফুল, ফল ও শৌখিন গাছপালা খেয়ে ফেলার অভিযোগে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া তিনটি গরুর মধ্যে দুটির মালিক শহরের পাশের ভুরভুরিয়া চা-বাগানের বাসিন্দা দুরপতি রবিদাস ও মানিক রবিদাস। অপর গরুটির মালিক পৌরসভায় না আসায় তাঁর নাম জানা যায়নি।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অভিযোগ পেয়ে কয়েক দিন আগে মাইকিং ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গরুর মালিকদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও অনেকে গরু নিয়ন্ত্রণে আনেননি। তাই জনস্বার্থে সোমবার অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে তিনটি গরু আটক করে পৌরসভায় আনা হয়। শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দুই মালিক পৌরসভায় এসেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়ে গরুগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এভাবে গবাদিপশু অবাধে ছেড়ে দিলে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১০টি গরু দুই থেকে তিনটি করে দলে বিভক্ত হয়ে শহরের সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। এতে একদিকে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল, অন্যদিকে গরুগুলো বাসাবাড়িতে ঢুকে ফুল, ফল ও গাছপালা নষ্ট করছিল। পাশাপাশি সবজি বাজারে ঢুকে সবজি খেয়ে ফেলা ও নষ্ট করা, দোকানের সামনে মলমূত্র ত্যাগ করা এবং ডাস্টবিনে মুখ ঢুকিয়ে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছিল। সবচেয়ে বেশি গরু দেখা গেছে শহরের স্টেশন সড়ক, নতুন বাজার ও ডাকবাংলোপাড়া এলাকায়।

ডাকবাংলো পাড়ার বাসিন্দা অলক দেবনাথ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরে অবাধে ঘুরে বেড়ানো গরুর কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই গরুগুলো বাসার আঙিনায় ঢুকে ফুলের গাছ, ফলের গাছ ও শৌখিন গাছপালা নষ্ট করে। অনেক সময় বাড়ির গেট খোলা থাকলে আরও ভেতরে চলে আসে। তিনি পৌরসভার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করলে শহরবাসী অনেকটাই স্বস্তি পাবে।

গরুর মালিক মানিক রবিদাস জানান, তারা প্রতিদিন গরুগুলো চা-বাগানে ছেড়ে দেন। সেখানে প্রচুর ঘাস থাকায় সেগুলো সারা দিন বাগানেই চরে বেড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু কীভাবে শহরের ভেতরে চলে যায়, তা বুঝতে পারছেন না। পৌরসভার অভিযানের পর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে গরুগুলোকে আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখভাল করবেন এবং বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা আর শহরে প্রবেশ করতে না পারে।