শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রথমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের পদ ও গোপনীয়তার শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজনে চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন।
পূর্ণমন্ত্রীর পদে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। জামালপুর-১ থেকে নির্বাচিত রশিদুজ্জামান মিল্লাতও পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন; তিনি দলের কোষাধ্যক্ষ এবং এর আগে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। মিল্লাত দীর্ঘদিন দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জামালপুরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। পার্বত্য বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, যিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, তিনিও মন্ত্রিসভার পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ভোলা-১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তিনিও পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা পান। জোটের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
প্রতিমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া দুজনের মধ্যে হুমায়ুন কবির টেকনোক্রেট হিসেবে পরিচিত এবং সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এই পদে যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি গাইবান্ধার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
শপথগ্রহণকালে পাঠ করা অঙ্গীকারে বলা হয় যে, তাঁরা আইনের পরিধির মধ্যে থেকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর কর্তব্য বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করবেন। বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য বজায় রাখার পাশাপাশি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। পাশাপাশি কোনো ধরনের ভীতি, অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে সকল নাগরিকের প্রতি আইনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথাও ব্যক্ত করা হয়।
এই শপথগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের মন্ত্রিসভার কাঠামো আরও বিস্তৃত হলো। নতুন মুখদের অন্তর্ভুক্তি ও পুরনো প্রতিমন্ত্রীর পদোন্নতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।



