এই বিশ্বকাপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো শেষ ষোলোতেই ছিটকে পড়ায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দাম ব্যাপক হারে কমে গেছে। টিকিট বিক্রির মাধ্যমিক বাজারগুলোতে এই চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। টিকিট পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্যানুযায়ী, স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার শুক্রবারের ম্যাচের টিকিটের মূল্য ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। মূলত বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তারা স্পেনের প্রতিপক্ষ হতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের হারের আগে টিকপিকে ওই ম্যাচের সর্বনিম্ন মূল্যের টিকিট ছিল প্রায় ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। কিন্তু স্বাগতিক দলটি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই মূল্য নেমে আসে প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলারে। একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর বিদায়ের পরও। রোববার ইংল্যান্ডের কাছে মেক্সিকোর পরাজয়ের পর শনিবার মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দাম ৪৫ শতাংশ কমে যায়। আগে যেখানে সবচেয়ে কম দামের টিকিট ছিল প্রায় ৪ হাজার ডলার, এখন সেটি নেমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ডলারে।
টিকপিকের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রেট গোল্ডবার্গের মতে, শেষ আটে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো উভয় দলই উঠবে—এই প্রত্যাশা থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ ষোলোয় টানা দুই দিনে উভয় দলের বিদায়ের পর সংশ্লিষ্ট ম্যাচগুলোর টিকিটের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ তৎক্ষণাৎ এবং উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস পায়। এর আগে কানাডাও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তিন স্বাগতিক দেশই এখন টুর্নামেন্টের বাইরে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে মেক্সিকোর বিদায়ের প্রভাব পড়েছে মার্কিন ক্রীড়াভিত্তিক রেস্তোরাঁ চেইন টমস ওয়াচ বারের ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রুকস শ্যাডেন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ম্যাচের দিনগুলো তাঁদের জন্য ছিল আয় বৃদ্ধির বড় সুযোগ। এখন এই দুই দল বাদ পড়ায় বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে তাঁদের ব্যবসা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শ্যাডেনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় মেক্সিকোর সমর্থকরা সময় বেশি কাটাতেন এবং খরচও বেশি করতেন।
তবে পুরো খবর নেতিবাচক নয়। টমস ওয়াচ বারের ধারণা, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর সময়ও আগের চেয়ে তাঁদের আয় ২৫ শতাংশ বেশি হবে। বিয়ার ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান বলছে, গত চার সপ্তাহে বার ও রেস্তোরাঁয় বিয়ার বিক্রি ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহরগুলোতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিয়ারের বিক্রি ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে এই হার ২৩ শতাংশ—গত মাসে সেখানে স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের উপস্থিতি এর কারণ। এরপর রয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগর এলাকা (১৯ শতাংশ) এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় (১৪ শতাংশ)। বিয়ার ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হেরিটেজের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র দলের ভালো পারফরম্যান্সের কারণে দেশটিতে টুর্নামেন্ট নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তথ্য বলছে, এই বিশ্বকাপ একক দলের চেয়েও বড়। ফাইনাল পর্যন্ত এই গতি বজায় থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। সমর্থকেরা একত্রে আনন্দ উদযাপনের জন্য বিয়ার ভাগাভাগি করে নেবেন—এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা।




