সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে একটি পরিচয় কম জানা—তিনি একজন কবিও ছিলেন। ফারসি, আরবি, উর্দু, রুশ, ফরাসি ও ইংরেজি সাহিত্যে তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। কৈশোর থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর টান ছিল বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন।

যৌবনে জ্যঁ পল সার্ত্রে ও বার্ট্রান্ড রাসেলের প্রতি আকর্ষণ ছিল তাঁর। ‘আমিন’ ছদ্মনামে কবিতা লিখতে শুরু করেন তিনি। সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য, কিন্তু রাজনৈতিক ব্যস্ততায় তা পুরোপুরি করতে না পারার বেদনা বারবার প্রকাশ করেছেন। নিয়মিত কবিতার মাহফিল আয়োজন করতেন এবং উর্দু কবি মুহাম্মদ ইকবালকে তাঁর অন্যতম প্রিয় কবি ও দার্শনিক হিসেবে গণ্য করতেন।

খামেনির কবিতায় হাফিজ বা ওমর খৈয়ামের মতো সুফি আধ্যাত্মিকতার উত্তরাধিকার লক্ষণীয়। তাঁর কবিতায় জীবন, মৃত্যু, প্রেম ও আত্মার মুক্তির মতো বিষয় উঠে এসেছে। ‘নিজের হৃদয়ে আমি বিঁধিয়ে দিয়েছি আজ নিজেরই নখর’—শিরোনামের কবিতায় তিনি আত্মবিস্মৃতি ও মোহের টানাপোড়েনের কথা বলেছেন। ‘মাতালের বেশে ফিরি, হুঁশহারা, হে আমিন, ভুলেছি অতীত-বর্তমান’—এই পংক্তিতে নিজের অবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর কবিতায় আত্মরতি ও আত্মসমালোচনার মিশ্রণ দেখা যায়। ‘নিজের হৃদয়ে আমি বিঁধিয়ে দিয়েছি আজ নিজেরই নখর’—এই লাইনে তিনি আত্ম-অবমাননার গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে ‘হৃদয় আমার তোমার কাছে বেখেয়ালে সঁপেছিলাম, জানি তুমি ভুলেই গেছ কিন্তু আমার মনে আছে’—এই অংশে প্রেম ও বিস্মৃতির দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

খামেনির কবিতার ভাষা ও ভাবগাম্ভীর্য তাঁকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং একজন সংবেদনশীল কবি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর মৃত্যুতে ইরানের রাজনীতি যেমন বড় শূন্যতা পেয়েছে, তেমনি সাহিত্য অঙ্গনও হারিয়েছে এক অনন্য স্রষ্টাকে।