বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন দেশের বিনোদন জগতের একাধিক তারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার নিজের ভালোবাসার দলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্পেনকেও, যারা নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর্জেন্টিনার এই পরাজয় ঘিরে তারকাদের প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠেছে তাঁদের ফেসবুক পোস্টে।
ফেসবুকে খেলা নিয়ে সরব ছিলেন অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তিনি লিখেছেন, ২০০৬ সাল থেকে তিনি মেসিকে চেনেন। তাঁর ভাষ্য, মেসির সঙ্গে বড় হয়েছেন তিনি। ফুটবলে অনেক বিস্ময় বালক এলেও হারিয়েও গেছে, কিন্তু মেসির মতো কেউ আসেনি। আর্জেন্টিনাকে অপছন্দ করার কারণে কেউ মেসিবিদ্বেষী হতে পারেন, কিন্তু মেসির চলে যাওয়ার পর বোঝা যাবে তিনি ফুটবলের জন্য কী ছিলেন। ২০ বছর ধরে ফুটবলকে রাঙিয়ে রাখা এই মানুষটি এই বিশ্বকাপে যা খেলেছেন তা অবিশ্বাস্য বলেও মন্তব্য করেন ইরফান।
অভিনেত্রী কেয়া পায়েল ধরে নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা জিতবে। সে কারণে তিনি আতশবাজিরও ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু হেরে যায় তাঁর পছন্দের দল। তবুও উৎসবের আমেজ ধরে রেখেছেন তিনি। কেয়া লিখেছেন, তিনি ভেবেছিলেন জিতলে ফুটাবেন, কিন্তু নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে আর ফোটাননি।
মেসির বিদায়ে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব লিখেছেন, দিনটা সম্ভবত তাদের ছিল না। ট্রফির চেয়েও বড় হলো তাঁদের দেওয়া অসংখ্য স্মৃতি ও আনন্দ। মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা চিরকালীন থাকবে।
মেসির বিদায় কি রওনক হাসানকে কষ্ট দিয়েছে? এই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, বিশ্বকাপজয়ী কুকুরেয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। রওনক তাঁর সঙ্গে একমত। তাঁর মতে, একবার কেউ বিশ্বকাপ জিতে গেলে তাঁর আর বিশ্বকাপ খেলা উচিত নয়। মেসির কান্না তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। সেমিফাইনালে এমবাপ্পের হতাশাও তাঁকে ব্যথিত করেছে। তিনি তাঁদের বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তটাই মনে রাখতে চান।
অভিনেত্রী মৌনিতা খান ঈশানা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে মেসিকে উদ্দেশ করে লেখেন, তাকে খেলতে দেখা মানেই আবেগের দীর্ঘ যাত্রা—উচ্ছ্বাস, গর্ব, কখনো হৃদয়ভাঙার কষ্ট। কিন্তু সবকিছুর মধ্যেও তিনি শিখিয়েছেন, গভীরভাবে অনুভব করা দোষের নয়। মুহূর্ত ভারী হয়ে উঠলে কেঁদে ফেলাও স্বাভাবিক। তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক আবেগ। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, ফল যা–ই হোক, তাঁরা সব সময় মেসির পাশেই থাকবেন।




