বিশ্বব্যাপী বন্ড বিনিয়োগকারীরা নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত ঋণের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এআই-সম্পর্কিত মোট ঋণের অঙ্ক ৫৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বন্ডের চাহিদা ক্রমশ শিথিল হওয়া এবং অর্থায়নের উৎস ব্যক্তিগত ঋণ (প্রাইভেট ক্রেডিট) ও অফ-ব্যালেন্স-শীট যানবাহনে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, প্রচলিত বন্ডের তুলনায় এই নতুন অর্থায়ন কাঠামোগুলোতে ঝুঁকি অনেক বেশি। ব্যক্তিগত ঋণ এবং অফ-ব্যালেন্স-শীট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামোতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, যার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে তারা বন্ডের বাইরে বিকল্প পথ খুঁজছে।

এআই খাতের এই ঋণ বৃদ্ধি একদিকে যেমন প্রযুক্তি বিপ্লবের গতি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই ঋণের মান নিয়ন্ত্রণে না রাখা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাপক খেলাপি ঋণের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। বন্ড বাজারের দুর্বল চাহিদার কারণে ইতোমধ্যে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যস্ত করছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, এআই খাতের অপ্রচলিত ঋণ কাঠামোগুলো বিনিয়োগের প্রচলিত নিরাপত্তা বলয়কে ভেঙে দিচ্ছে। ফলে বন্ডের বাজার ঐতিহ্যগত ভূমিকা থেকে সরে আসছে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নতুন পদ্ধতি প্রয়োজন হয়ে পড়ছে।