শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পেশাগত বিরোধের জের ধরে এক প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়ার সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে গত বৃহস্পতিবার। ছুটি না পাওয়ার ক্ষোভে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের অভ্যন্তরে এই মারধরের ঘটনা ঘটে, যার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে ছুটির জন্য আবেদন করেন। প্রধান শিক্ষক তাতে আপত্তি জানালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন আলী আসাদ মিয়াকে মারধর করেন। ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক তাঁর কক্ষে অন্যান্য ছয়জন শিক্ষক ও অফিস সহকারীসহ কাজ করছিলেন। দেলোয়ার হোসেন শিশুসন্তানকে নিয়ে কক্ষে এসে বসেন। কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক চেয়ার ছেড়ে জানালার পাশে দাঁড়ালে দেলোয়ার হোসেন তাঁকে আঘাত করতে থাকেন। সহকর্মীরা হস্তক্ষেপ করলে প্রধান শিক্ষক কক্ষ ত্যাগ করেন এবং পরে অভিযুক্ত শিক্ষক কক্ষের চেয়ার ও কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের বরাত দিয়ে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন, আর আলী আসাদ মিয়া প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ২০২৪ সালের মে মাসে। উভয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। দেলোয়ার হোসেনকে ছয় মাসের জন্য পাশের ছুরিরচর বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠানো হয়েছিল এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি পুনরায় আব্বাস আলী বিদ্যালয়ে ফেরেন।
মারধরের শিকার প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ওই সহকারী শিক্ষক প্রায়ই অজুহাতে স্কুল ফাঁকি দিতেন এবং অশালীন আচরণ করতেন, যে কারণে তাঁকে প্রেষণে রাখা হয়েছিল। যেদিন ঘটনা ঘটে, সেদিন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত থাকায় ছুটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘প্রধান শিক্ষক আমার সংসার ধ্বংস করেছেন, তাঁর জন্যই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। অসুস্থ ৫ বছর বয়সী সন্তানের চিকিৎসার জন্য ছুটি চেয়েও না পাওয়ায় আমি মাথা ঠিক রাখতে পারিনি, তাই এমন আচরণ করেছি।’
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। ইউএনও আবুবকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিভাগীয় পদক্ষেপের সুপারিশসহ পুরো বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রেরণ করা হবে।




