ডিফরেন্ট টাচ ব্যান্ডের জনপ্রিয় ভোকাল মেসবা রহমান সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান ব্যস্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে শো করা এবং নতুন গান তৈরির কাজেই মূলত সময় কাটছে। গাজীপুর, কুমিল্লা, খুলনা ও বগুড়ায় স্টেজ শো করেছেন। এছাড়াও সংসদ ভবনে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কনসার্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
নতুন গান প্রসঙ্গে মেসবা বলেন, মঞ্চে বেশ কিছু নতুন গান পরিবেশন করা হচ্ছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া মিলছে। তাঁর আশা, ‘শ্রাবণের মেঘ’, ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ ও ‘মন কী যে চায়’-এর মতো ব্যান্ডের সিগনেচার গানগুলোর মতোই নতুন গানগুলোও মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে এখন সবকিছু ভিডিও নির্ভর হওয়ায় গানগুলোর ভিজ্যুয়াল কাজ সম্পন্ন করে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলেই সেগুলো প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন তারা।
সম্প্রতি ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে মেসবা জানান, বিষয়টি তিনি প্রথম গত রোববার জানতে পারেন। তাঁর মতে, এটি বিতর্কের মতো কিছু নয়; বরং এটি ডিফরেন্ট টাচের গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাওয়ার একটি সুযোগ। এক শিক্ষকের রিলস নিয়ে তিনি কোনো বিব্রতকর অবস্থা দেখতে পাননি বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্যে, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গানটি মানুষের কাছে পৌঁছানো ভালো লাগার বিষয় এবং আশা করছেন এই পরিস্থিতি বেশি দূর এগোবে না।
গানটির জনপ্রিয়তার শুরু সম্পর্কে মেসবা স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিটিভিতে একটি ঈদের অনুষ্ঠানে প্রথম পরিবেশনের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তখন অ্যালবামের যুগ থাকায় অ্যালবামটি বেশ পরিচিতি পায়। গানটির সফলতার পেছনে কেবল লেখক ও সুরকার নন, বরং কম্পোজিশনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। গিটারের শুরুর সাউন্ডটিই দর্শকদের আন্দোলিত করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের সময় একটি মজার ঘটনা শোনান মেসবা। প্রথমবার গানটি শুরু করতেই অঝোর বৃষ্টিতে অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। পরের বছর আবারও আমন্ত্রণ পেয়ে গান শুরু করতেই একই ঘটনা ঘটে। সবাই বিস্মিত হয়েছিলেন। এটিকে তিনি ব্যান্ডের মধুর স্মৃতি হিসেবে আখ্যা দেন। ঢাকা হোক বা বিদেশের মঞ্চ, দর্শকরা নিজেরাই গানটি গেয়ে ওঠে—এটাও তার কাছে বিশেষ এক অভিজ্ঞতা।
সাম্প্রতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে গানটি ছড়িয়ে পড়ায় নতুন কাজের প্রতি কোনো দায়বোধ তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেসবা বলেন, বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং দ্রুতই নতুন গান প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন। আপাতত একক গান (সিঙ্গেল) প্রকাশের পরিকল্পনা। ভবিষ্যতে একসঙ্গে সাত-আটটি গানের প্রকাশনা উৎসব করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।




