গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের (এসওবিই) আয়োজনে নেক্সাস সেমিনার সিরিজের তৃতীয় পর্ব সম্পন্ন হয়। ‘নারী পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ইএসজি ও জলবায়ুর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং করপোরেট খাতের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইউআইইউর বিবিএ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অধ্যাপক সালমা করিম। এরপর মূল আলোচনায় অংশ নেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন করপোরেশন (আইএফসি)–এর সিনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট আফিফা রাইহানা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে পরিবেশগত, সামাজিক ও প্রশাসনিক (ইএসজি) মানদণ্ড এবং জলবায়ু–সম্পর্কিত আবশ্যকতা ব্যবসার কৌশল, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত, বাজারে প্রবেশ, প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিস্থাপকতার ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করছে। তাঁর মতে, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন পদ্ধতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইএসজি প্রতিবেদন, টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশগত পরামর্শ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে নারীদের জন্য নতুন ও সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের সুযোগ উন্মোচিত হচ্ছে। এসব সুযোগকে কাজে লাগাতে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং নীতিমালা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা ও কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এসব মানদণ্ড পরিপালনের ক্ষেত্রে নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ও অসম চাপের মুখোমুখি হতে পারে। এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) মানদণ্ড নারীদের কর্মজীবন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে, কিন্তু সেই সম্ভাবনা টেকসই করতে হলে উপযুক্ত কাঠামো অপরিহার্য।
মূল বক্তব্যের পর স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও শিক্ষা—এই তিন খাতের বিশিষ্ট পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জীবনের টেকসই অনুশীলনের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায়িক পরিবেশের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য আরও দক্ষ ও প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারে।
পুরুষপ্রধান নির্মাণশিল্পে দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতার আলোকে ফ্রান্সভিত্তিক মেনার্ড গ্রুপের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার ফাহিমা শাহাদাত প্রযুক্তিগত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নারীদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা বর্ণনা করেন। অন্যদিকে, স্যার জন উইলসন স্কুলের প্রিন্সিপাল সাবরিনা শহীদ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই পরিবেশগত দায়বদ্ধতা, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নেক্সাস সেমিনার সিরিজের আহ্বায়ক ও মডারেটর অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ মন্তব্য করেন, শীর্ষস্থানীয় শিল্প বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের ইউআইইউর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করার মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষা ও পেশাগত বাস্তবতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ গড়ে তোলা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




