সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে শনিবার দুই দিনব্যাপী ‘উপাচার্যদের সংলাপ’–এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপ আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান, উন্নত বিশ্বের আদলে দেশে একটি ‘পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশে বহু বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলেও এখনো কোনো পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় নেই। প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান, যেখানে বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। তাই দেশেই এ ধরনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।
গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ দেখিয়েছেন বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাখাতের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির দুই শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগামী বছরে তা তিন শতাংশে এবং ধাপে ধাপে পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর ওপর জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী। চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম হালনাগাদ করতে হবে। নতুন বিভাগ খোলার সময়ও কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে এমন কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলো মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছে না। এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে ইউজিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানসম্মত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে কমিশনকে তিনি নির্দেশ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, সরকারের অগ্রাধিকারমূলক খাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলপত্রের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত হবে।
সংলাপের দ্বিতীয় দিনে পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষার্থী সহায়তা ও কর্মসংস্থান যোগ্যতা, আর্থিক ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা, উচ্চশিক্ষার রূপান্তরে হিট প্রকল্পের ভূমিকা এবং উচ্চশিক্ষার কৌশলগত পরিকল্পনা—এই চারটি বিষয়ে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগম এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার। অধিবেশনগুলোতে সভাপতি ও আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক মো. আসলাম হোসেন ও অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।




