দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই জেলেরা জাল ফেলতে শুরু করেন এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাছভর্তি নৌযান নিয়ে ফিরতে শুরু করেন তারা।

রাঙামাটি শহরের ফিশারি মৎস্য অবতরণ ঘাটে সকাল থেকেই দেখা যায় ব্যস্ততা। লংগদু, বরকল, সুবলং, বন্দুকভাঙাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নৌযানগুলো ঘাটে ভিড়ছে। জেলে, শ্রমিক ও আড়তদারদের মধ্যে চলছে মাছ খালাস, ওজন ও ট্রাকে তোলার কাজ।

মো. ইব্রাহিম নামের এক জেলে জানান, প্রথম যাত্রাতেই কিছু মাছ পেয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি ভালো থাকায় সারা দিন মাছ ধরার আশা তাঁর। অপরদিকে আড়তদার মো. কবির মিয়ার মতে, মাছ ধরা পড়লেও আকারে তেমন বড় নয়।

একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাঙামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. পান্না মিয়াও। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মাছই ছোট আকারের। পাশাপাশি ঘাটে পন্টুন ও মাছ রাখার পর্যাপ্ত স্থানের অভাবে জেলেরা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান তিনি।

সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বুলবুল হোসেন বলেন, ১০০ দিন পর ফের মাছ ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দিন শেষে মোট আহরিত মাছের পরিমাণ জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম জানান, মাছ শিকার শুরুর পর ঘাটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাছের আকার তেমন বাড়েনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর প্রথম দিনে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ ধরা পড়েছিল, অথচ আজ সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ১৬ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করেছে। গত বছর ১০ হাজার মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ছাড়িয়ে গিয়েছিল উৎপাদন। এবারও আবহাওয়া সহায়ক হলে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত আদেশে গতকাল এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে শর্ত হিসেবে জেলেদের বিএফডিসি থেকে লাইসেন্স নেওয়া, ৯ ইঞ্চির ছোট পোনা না ধরা, অভয়াশ্রমে শিকার বন্ধ রাখা এবং নির্ধারিত ঘাট ছাড়া অন্যত্র মাছ না তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।