ফ্যাশনকে কেবল পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেটিকে গল্প বলার এবং সংস্কৃতি প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)-তে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিলস অ্যান্ড রানওয়ে ২০২৬’। বিইউএফটি ফ্যাশন ক্লাব এই আয়োজনের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, ফ্যাশন পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। আয়োজনের কেন্দ্রীয় ভাবনা ছিল ফ্যাশনকে শুধু নকশা নয়, বরং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ও শিল্পের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা।
আলোচনা, উপস্থাপনা, ফ্যাশন শোকেস এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিনজুড়ে এই ভাবনাকে বিভিন্ন দিক থেকে ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিইউএফটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান, উপাচার্য ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান এবং বিইউএফটি ফ্যাশন ক্লাবের উপদেষ্টা তানজিবুল হাসান সজীব। তাঁদের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃজনশীল শিক্ষা ও শিল্পচর্চার প্রতি অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বক্তারা বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, পরিবর্তনশীল ধারা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন তাঁরা। তরুণ ডিজাইনার ও শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁদের বক্তব্য ছিল অনুপ্রেরণার উৎস।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে অনুষ্ঠিত হয় ‘রিলস অ্যান্ড রানওয়ে ফ্যাশন শোকেস’। এতে বিইউএফটির শিক্ষার্থীরা চলচ্চিত্রের গ্ল্যামার, চরিত্র এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজস্ব কালেকশন উপস্থাপন করেন। প্রতিটি ডিজাইনে তাদের সৃজনশীল চিন্তা, কারিগরি দক্ষতা এবং সমসাময়িক ফ্যাশন ভাবনা ফুটে ওঠে। চলচ্চিত্র এখনও ফ্যাশন ডিজাইনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে গেছে, সেটিই যেন প্রতিটি পোশাকে প্রতিফলিত হয়েছে। পুরুষদের কালেকশনে প্রাধান্য পেয়েছে নিরীক্ষাধর্মী নকশা। নিখুঁত টেইলরিংয়ের ডাবল-ব্রেস্টেড স্যুট, কেপ-স্টাইল ব্লেজার, অ্যাসিমেট্রিক কাটের ব্লেজার ও স্যুট এবং কোমরে বেল্ট বা র্যাপ ডিটেইলের মাধ্যমে ক্ল্যাসিক টেইলরিংকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিছু পোশাকে কাঁধজুড়ে চেইনের অলংকরণ এবং ব্যাকলেস কাটের সঙ্গে খোলা পিঠজুড়ে সোনালি চেইনের ব্যবহার পুরো লুকে নাটকীয় আবেদন এনেছে। ব্লেজারের ওপর হাতে সেলাই করা প্যাচওয়ার্ক এবং লম্বা স্ট্রেট-কাট কোটে হ্যান্ড এমব্রয়ডারির কাজ পোশাকে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, নারীদের কালেকশনে প্রাধান্য পেয়েছে নাটকীয় সিলুয়েট এবং সিনেমা-অনুপ্রাণিত গ্ল্যামার। রানওয়েতে দেখা যায় ভলিউমিনাস পাফ-স্লিভ, রাফলের ব্যবহার, করসেট সিলুয়েট, শিয়ার কেপ, লম্বা ট্রেন, ওয়ান-শোল্ডার, অফ-শোল্ডার, স্ট্র্যাপলেস এবং স্প্যাগেটি-স্ট্র্যাপ গাউনের মতো নানা নকশা। কোথাও কোমরে চওড়া চামড়ার বেল্ট, কাঁধ থেকে নেমে আসা কেপ হাতা, আবার কোথাও বডিসজুড়ে ড্রেপিং, কাটআউট এবং ফ্লোরাল সিকুইন ও পার্ল অ্যাপ্লিকের সূক্ষ্ম কাজ আউটফিটকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ফুল লেংথ প্লিটেড স্কার্ট, ড্রপ-ওয়েস্ট ও মারমেইড-কাট গাউন, বেলুন স্লিভ এবং মেটালিক ও সিকুইন এমব্রয়ডারির ব্যবহার প্রতিটি লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ভিনটেজ আইভরি ওয়েডিং গাউন, লেইস ভেইল, সাদা গ্লাভস ও পার্ল নেকলেসও রানওয়েতে নজড় কেড়েছে, যা ক্ল্যাসিক ব্রাইডাল ফ্যাশনকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। কোথাও রাজকীয় আভিজাত্য, কোথাও আধুনিক রেড কার্পেট গ্ল্যামার এবং কোথাও চরিত্রনির্ভর স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সিনেমার আবহ প্রকাশ পেয়েছে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই হেয়ারস্টাইল, মেকআপ ও অ্যাকসেসরিজ প্রতিটি লুককে আরও পরিপূর্ণ করেছে।
রানওয়ের গ্র্যান্ড ফিনালে ছিল আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ। এই পর্বটি উৎসর্গ করা হয় ফ্যাশন জগতের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা’-কে। ‘রিলস অ্যান্ড রানওয়ে ২০২৬’-এর পাওয়ারড বাই পার্টনার ছিল জুশ (Joosh)। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল হাল ফ্যাশন, আইস টুডে এবং ক্যানভাস। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ পার্টনার ছিল সায়র, ক্লাব পার্টনার হিসেবে ছিল বিইউএফটি ফটোগ্রাফি ক্লাব এবং ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল ক্যাচ স্টুডিও ও বিইউএফটি লিটারেচার অ্যান্ড রিভিউ ক্লাব। ছবি: বিইউএফটি।

