যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য ও পানীয় পণ্য প্রত্যাহারের সংখ্যা গত এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেডগউইকের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ১৪০টি খাদ্য ও পানীয় পণ্য প্রত্যাহার ইভেন্ট রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ১২৭টি ইভেন্টের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, প্রত্যাহারকৃত পণ্যের ইউনিট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে— সাড়ে সাত কোটি থেকে কমে পাঁচ কোটি ৭৪ লাখে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রত্যাহারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬০, যা আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।
এই বর্ধিত প্রত্যাহার তৎপরতার মধ্যে সম্প্রতি বড় দুটি খাদ্য নিরাপত্তা ঘটনা নজর কেড়েছে। বহুজাতিক খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেনারেল মিলস যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্ট স্টোরের বেকারিতে সরবরাহকৃত প্রায় সাড়ে সাত লাখ পিলসবারি হিমায়িত ডো রুটি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পণ্যটিতে কাঁচের টুকরো মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অতি সতর্কতা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা দাবি করেছেন, প্রত্যাহার অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ঘটেছে এবং ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যভাবে সংক্রমিত সব পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে, টাকো বেল আইসবার্গ লেটুস নিয়ে সতর্কতা জারি করে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, মিশিগান, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের টাকো বেল রেস্টুরেন্টে ব্যবহৃত লেটুসে ডায়রিয়াসৃষ্টিকারী সাইক্লোস্পোরা পরজীবী থাকার আশঙ্কা দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে এফডিএ সরবরাহকারী টেইলর ফার্মসকে দায়ী করলেও পরে পরীক্ষায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। টাকো বেল জানিয়েছে, সতর্কতামূলকভাবে তারা নির্দিষ্ট কিছু উপকরণ সরিয়ে দিয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলছে।
প্রত্যাহারের সংখ্যা বৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগজনক হলেও তা খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় ত্রুটির হার বাড়ার ইঙ্গিত দেয় না বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির মাংস নিরাপত্তা ও গুণগত মান কেন্দ্রের প্রধান কিথ বেল্ক জানিয়েছেন, এক্স-রে ও ধাতব শনাক্তকারী যন্ত্রের মতো উন্নত প্রযুক্তি খাদ্যে বিদেশি বস্তু সনাক্তকরণ সহজ করেছে। এছাড়াও ২০১১ সালে মার্কিন কংগ্রেসের খাদ্য নিরাপত্তা আধুনিকীকরণ আইন পাসের ফলে এফডিএ প্রত্যাহারের ক্ষমতা আরও সুসংহত হয়েছে। আইন পাসের পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যানপালন পণ্যের বৃহত্তম সরবরাহকারী মেক্সিকো খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন নমুনা পরীক্ষা ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করে। গত জানুয়ারিতে এফডিএ খাদ্য লেবেল ও গ্লুটেন সংক্রান্ত তথ্য আহ্বান করে স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়।
প্রত্যাহারের সবচেয়ে সাধারণ কারণ এখনও অ্যালার্জেন লেবেল না থাকা। শুধু প্রথম প্রান্তিকেই অ্যালার্জেন সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে ৫৭টি প্রত্যাহার ঘটেছে। ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্কে লেবেলবিহীন চিনাবাদামযুক্ত কুকি খেয়ে এক নৃত্যশিল্পীর মৃত্যু এই ঝুঁকির উদাহরণ। ব্যাকটেরিয়া দূষণের কারণে আরও ২২টি পণ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এফডিএ স্বীকার করছে, খাদ্যজনিত রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কিছু অনিবার্য ত্রুটির জন্য তারা 'অ্যাকশন লেভেল' নির্ধারণ করে দিয়েছে। বেল্কের মতে, খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে কখনোই শূন্য ঝুঁকি সম্ভব নয়, তাই প্রত্যাহারের ঘটনা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না।




