ফুটবল বিশ্বকাপের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তিগত পুরস্কার। প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ, গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল বা গোল্ডেন গ্লাভ—এসবই একজন খেলোয়াড়ের দক্ষতার স্বীকৃতি। বেশিরভাগ ভক্তের ধারণা, এই পুরস্কার জিতলে মোটা অঙ্কের অর্থও পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ফিফা এই ধরনের ব্যক্তিগত সম্মাননার জন্য সরাসরি কোনো নগদ অর্থ প্রদান করে না। ২০০২ সাল থেকে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ ট্রফি চালু হলেও এটি কেবল সম্মানসূচক। একইভাবে গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন গ্লাভও শুধু স্বীকৃতি, আনুষঙ্গিক অর্থ নয়।
প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে এসব পুরস্কারের মর্যাদা কোথায়? প্রকৃত অর্থে, এই সম্মাননা খেলোয়াড়ের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তৈরি করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে বেড়ে যায় বাজারমূল্য। বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন তিনি। স্পন্সরশিপ ও পৃষ্ঠপোষকতার অফার আসতে শুরু করে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বোনাসও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়তে পারে। বলা চলে, ট্রফি হাতে ওঠার মুহূর্তে চেক না মিললেও তা পরোক্ষভাবে আর্থিক জাঁকজমক তৈরি করে। অর্থাৎ ট্রফিই হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের বিশাল অর্থ উপার্জনের সিঁড়ি।
চলমান বিশ্বকাপের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চারবার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি ও জুড বেলিংহাম। এ তালিকায় তাদের পরেই আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই তিন তারকা তিনবার করে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
অন্যদিকে ফিফা ব্যক্তিগত পুরস্কারে অর্থ না দিলেও বিশ্বকাপে দলীয় সাফল্যের জন্য বিপুল অঙ্কের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন দলকে দেওয়া হবে রেকর্ড পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিযোগিতার এই অর্থ পুরস্কার থেকে দলের সদস্য ও স্টাফরা উপকৃত হন।
প্রতিবেদনের শেষ অংশে বিশ্বকাপের একটি চলমান বিতর্কের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। তা হলো, আর্জেন্টিনা কি ইতিহাসের সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে? লেখাটিতে এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে।

