প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাস্তবায়নের প্রতিযোগিতায় সংস্থাগুলো সেই একই ভুল করছে যা গেমাররা বছরের পর বছর ধরে করে আসছে। ফরচুন ডটকম-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধে এই সাদৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। লেখক, যিনি নিজেও একজন অভিজ্ঞ গেমার, তিনি স্টারক্রাফট, এজ অব এম্পায়ারস ও ডোটার মতো গেমের সঙ্গে এআই বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পেয়েছেন।

অতীতে গেমারদের দক্ষতা মাপার একটি জনপ্রিয় মাপকাঠি ছিল ‘প্রতি মিনিটে অ্যাকশন’ বা এপিএম। ধারণা করা হতো, উচ্চতর এপিএম মানে উন্নত খেলোয়াড়। কিন্তু এই ধারণা ধীরে ধীরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। গুডহার্টের আইন অনুযায়ী, যখন কোনো মাপকাঠি লক্ষ্যে পরিণত হয়, তখন তা আর কার্যকর থাকে না। শুধু দ্রুত বাটন চাপলেই খেলা জেতা যায় না, বরং এটি বিভ্রান্তিকর উন্নতির illusion তৈরি করে।

গবেষণাও এই ধারণাকে সমর্থন করে। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষজ্ঞ ও নবাগত স্টারক্রাফট খেলোয়াড়দের মধ্যে এপিএম-এর কোনো পরিসংখ্যানগত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নেই। ২০১৪ সালের আরেকটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রতিক্রিয়ার সময় কমলেও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ভালো বিচারবুদ্ধি ও কার্যকর কৌশলের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করেন। এমনকি গুগলের ডিপমাইন্ডের আলফাস্টার নামক এআই সিস্টেমটিও কম এপিএম নিয়ে মানব খেলোয়াড়দের হারিয়ে দিয়েছে, কারণ এটি বড় কৌশলে মনোযোগ দিয়েছিল, অপচয়কর ক্লিকে নয়।

এখন সেই ভুলই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এআই জগতে, তবে নতুন নামে: টোকেনম্যাক্সিং। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই এজেন্টদের টোকেন ব্যবহার নিয়ে গর্ব করে, ঠিক যেমন গেমাররা তাদের এপিএম নিয়ে করত। কিন্তু অ্যানথ্রপিকের গবেষণা বলছে, এজেন্ট সিস্টেম সাধারণ চ্যাটের চেয়ে চারগুণ বেশি টোকেন ব্যবহার করে, আর মাল্টি-এজেন্ট সিস্টেম পনেরো গুণ বেশি ব্যবহার করে। এসব অপচয়কর টোকেন আসলে অপচয়কর ক্লিকের মতোই অকার্যকর।

এমআইটি, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ও ইউসিএলএর গবেষকদের একটি সাম্প্রতিক অর্থনীতি তত্ত্বের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ‘উন্নয়নের প্রধান বাধা আর বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং মানুষের যাচাইকরণ ক্ষমতা।’ এআই বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেজ কার্পাথিও এক বক্তব্যে একই সুরে বলেন, ‘আমিই এখনও বাধা, কারণ এক হাজার লাইন কোড তাত্ক্ষণিকভাবে এলেও সেটি বাগমুক্ত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গেমিং জগতে অবশেষে ‘কার্যকর এপিএম’-এর মতো ভালো মাপকাঠি চালু হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় ইনপুট বাদ দিয়ে প্রকৃত কৌশলগত সম্পাদনকে আলাদা করে। কিন্তু এআই-তে এখনও কার্যকর ও যাচাইকৃত আউটপুট বনাম কাঁচা টোকেন পোড়ানোর কোনো সমতুল্য মাপকাঠি নেই। লেখক মনে করেন, গেমিংয়ের শীর্ষ খেলোয়াড় হতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বেশিরভাগ চাকরির চেয়ে বেশি দক্ষতার প্রয়োজন। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, কোডের লাইন বা এপিএম যেমন প্রকৃত উৎপাদনশীলতার নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়, তেমনই টোকেন ব্যবহারও নয়। সঠিক পদ্ধতি হলো পর্যবেক্ষণ ও যাচাইকরণের ওপর জোর দেওয়া।