মঞ্চাভিনেত্রী ও নির্মাতা কাজী নওশাবা আহমেদ সম্প্রতি তার সহকর্মীর ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার অর্থ যোগাতে অভিনয় করেছেন। 'টুগেদার উই ক্যান' নামক তার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে গাজীপুরে 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' মঞ্চস্থ হয়, যেখানে মূল ভূমিকায় ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী ক্যামেলিয়া শারমিন। নওশাবা জানান, ২০১৮ সাল থেকে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠনটি ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে এবং জরুরি তহবিল গঠনে এই আয়োজন করে।
এই অভিনেত্রী এই উদ্যোগকে তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করে বলেন, "আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে সবাই পরস্পরের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত। অথচ থিয়েটারই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে একে অপরের পাশে থাকতে হয়। বিপদে কাউকে একা ফেলে রাখা যায় না, এই শিক্ষা থেকেই আমরা সবাই এক হয়েছি।"
পরিবেশ সচেতনতা ও সংস্কৃতি প্রসারের বিষয়ে নওশাবা জানান, তার নাটকগুলোতে প্লাস্টিক বর্জন ও বৃক্ষরোপণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি যে অনুষ্ঠানেই যান না কেন, সাথে করে গাছ নিয়ে যান। তার ভাষায়, "আমি যেখানেই যাই, নিম, বেল অথবা নানা ফুলের গাছ সাথে করে নিয়ে যাই, যেন তরুণেরা প্রকৃতি ও সংস্কৃতির কাছাকাছি আসতে অনুপ্রাণিত হয়।"
ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে নওশাবা প্রকাশ করেন যে, তিনি তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র 'সোমেশ্বরী'-র নির্মাণ শেষ করেছেন এবং ইতিমধ্যেই আরেকটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য প্রস্তুত করছেন। তবে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন প্রযোজকের অভাব। তিনি বলেন, 'আমার ভাবনাগুলো দর্শকের সাথে ভাগাভাগি করতে চাই, কিন্তু প্রযোজক জোগাড় করাই এখন প্রধান সংকট।'
এছাড়াও ভবিষ্যতে গান নিয়ে কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে নওশাবা বলেন, 'আমার গলার স্বর খুব ভালো নাও হতে পারে, কিন্তু গুনগুন করে গান করার অভ্যাস তো আছে। থিয়েটার করতে গেলে সব বিষয়ে ধারণা রাখতে হয়, তাই আলাদা করে গান নিয়েও ভবিষ্যতে অগ্রসর হব।' নিয়মিত ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন না বলে তিনি চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছেন। তিনি আরও বলেন, 'লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন, শুটিং ফ্লোর-এগুলো ভীষণ মিস করি। কাজ না পাওয়ার কোনও অভিমান নেই, তবে কাজ করতে না পারার কষ্ট রয়ে গেছে।'
সাম্প্রতিক সময়ে নুহাশ হুমায়ূনের '২ ষ'-এর 'অন্তরা' পর্ব তাকে দারুণ আলোচনায় এনে দিয়েছে। পছন্দের তালিকায় রয়েছে সাদাত হাসান মান্টোর গল্প অবলম্বনে নির্মিত 'ঠান্ডা গোশত ২.০'। নওশাবা জানান, তিনি ধৈর্য ধরে ভালো কাজের অপেক্ষায় আছেন এবং মঞ্চ, সিনেমা ও নাটক-সব মাধ্যম নিয়েই তার পথচলা অব্যাহত রাখতে চান। পাশাপাশি, তার সংস্থার মাধ্যমে সারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছুক তিনি।




