প্রযুক্তি খাতে এআই-এর প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ওপেনএআই-এর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) সারা ফ্রিয়ার সম্প্রতি একটি ব্লগ পোস্টে এমন একটি স্কোরকার্ড উন্মোচন করেছেন যা এআই ব্যয়ের অর্থনৈতিক ফলাফল যাচাই করতে সাহায্য করবে। দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যারের সাফল্য মাপা হত ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সক্রিয় সেশন এবং পুনর্নবীকরণের হারের মতো সূচকে। ফ্রিয়ার মনে করেন, এআই-এর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি যথেষ্ট নয়; বরং প্রকৃতপক্ষে এআই কতটা কাজ সম্পাদন করছে তা পরিমাপ করা জরুরি।
তাঁর ভাষ্যে, 'প্রতি ডলারে কার্যকরী বুদ্ধিমত্তা' নামক একটি মেট্রিকই এআই বিনিয়োগের সঠিক চিত্র দিতে পারে। এই মেট্রিকের চারটি মৌলিক উপাদান রয়েছে: প্রথমত, এআই কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করছে? দ্বিতীয়ত, প্রতিটি সফল কাজের খরচ কত? তৃতীয়ত, ফলাফলের ওপর কি নির্ভর করা যায়? এবং চতুর্থত, ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ডলার কি আরও বেশি মূল্য উৎপাদন করছে? বাস্তব ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, নেতাদের নির্দিষ্ট মানের একটি সীমারেখা অতিক্রম করে এআই-এর মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ ট্র্যাক করতে হবে, সেই কাজের মোট খরচ যোগ করে সফল কাজের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে প্রতিটি সফল কাজের খরচ বের করতে হবে। এরপর যাচাই করতে হবে যে মানুষ নির্ভরযোগ্যভাবে সেই আউটপুটের ওপর ভরসা রাখতে পারে কিনা এবং সময়ের সাথে সাথে উচ্চ-মানের কাজের পরিমাণ কি মোট খরচের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে, যেখানে গুণগত মান অপরিবর্তিত বা উন্নত হচ্ছে।
ফ্রিয়ার ব্যাখ্যা করেছেন, এই সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কম্পিউট ক্ষমতা। তাঁর মতে, ওপেনএআই-এর দায়িত্ব হলো প্রতিটি প্রজন্মের মডেলের সাথে এই সমীকরণকে আরও উন্নত করা—অর্থাৎ আরও সক্ষম মডেল, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কম খরচ নিশ্চিত করা। ওপেনএআই-এর জন্য, কম্পিউট শুধু একটি প্রযুক্তিগত ব্যয় নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত সম্পদ। একটি বেসরকারি কোম্পানি হিসেবে তারা আনুষ্ঠানিক মূলধন ব্যয় নির্দেশিকা প্রকাশ না করলেও, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত স্টারগেট উদ্যোগে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রাথমিক ধাপে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৃহৎ পরিসরের এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়। ২০২৯ সালের মধ্যে ১০ গিগাওয়াট ক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে মাত্র এক বছরের বেশি সময়ে তারা সেই মাইলফলক অতিক্রম করেছে, কারণ এআই-এর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর প্রাথমিক পাবলিক অফার (আইপিও) এই গ্রীষ্মেই অথবা ২০২৭ সালের মধ্যে আসতে পারে। কোম্পানিটির বর্তমান মূল্যায়ন ৮৫২ বিলিয়ন ডলার, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আর্থিক কর্মকর্তাদের ভূমিকাও পরিবর্তিত হচ্ছে। সম্প্রতি ম্যাককিনজি তাদের ২৪তম বার্ষিক গ্লোবাল সিএফও ফোরামের আয়োজন করে, যেখানে ৩০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১০০ জন শীর্ষ অর্থপ্রধান অংশ নেন। ম্যাককিনজির সিনিয়র পার্টনার অ্যান্ডি ওয়েস্ট ফরচুনকে জানান, তিনি একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপ চালিয়ে দেখেছেন যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সিএফওর কাছে এখন কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ রিপোর্ট করে। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল এক-তৃতীয়াংশেরও কম। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছর ধরে এই সম্মেলনে এআই নিয়ে আলোচনা চললেও, আগের বছর নেতারা শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন। এ বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পুরোপুরি এন্টারপ্রাইজ-ব্যাপী রূপান্তরের দিকে সরে গেছে।


