যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ৪৮ দলের বিশ্বকাপের পর্দা নামল স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। ৩৯ দিনের এই আসরকে সামগ্রিকভাবে সফল বললেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইতিমধ্যেই পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। তাঁর লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪-তে নিয়ে যাওয়া। ইনফান্তিনোর দর্শন হলো ‘যত বেশি দল, তত বেশি ম্যাচ আর তত বেশি অর্থ।’ তিনি বারবার বলেছেন, ছোট দেশগুলোকে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে ফুটবলের উন্নয়নে তাদের আগ্রহ থাকবে না।

তবে ইনফান্তিনোর এই পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন ফেডারেশনের মধ্যে ঐকমত্য নেই। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কনমেবল প্রথম এই প্রস্তাব দিলেও বাকিরা তেমন সাড়া দেয়নি। কেউ একে ‘বাজে আইডিয়া’ বলেছেন, আবার কেউ বলেছেন, এত দলের আগমনে ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক চরিত্র নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬৪ দলের ফরম্যাট খুব বেশি জটিল হবে না। বর্তমান ৪৮ দলের কাঠামোয় ১৬ গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল নিয়ে শেষ ৩২ আয়োজন করা যেতে পারে। এতে তৃতীয় স্থানে থেকে পরবর্তী পর্বে ওঠার জটিলতাও দূর হবে। বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়া ইতালি, ডেনমার্ক, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতার মান আরও বাড়বে বলেও মত রয়েছে।

২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শততম বছর উদযাপনের পরিকল্পনা হয়েছে ছয় দেশে—পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। এই বিশাল আয়োজনের সূত্র ধরেই দলের সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা আরও জোরালো হয়েছে। তবে এখনই ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফিফার অধীন ২১১টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশের অংশগ্রহণ খুব অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু তার আগে ইনফান্তিনোকে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হবে।

এদিকে, চলতি বিশ্বকাপ নিয়েও কিছু সমালোচনা ছিল। আমেরিকার আয়োজক কর্তৃপক্ষ ফুটবলকে নিজেদের সংস্কৃতির আদলে সাজানোর চেষ্টা করেছিল। হাইড্রেশন ব্রেক এবং সুপার বোলের মতো দীর্ঘ হাফটাইম শোতে খেলার তুলনায় বিনোদনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক ও মাঠে ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ ছিল ইউরোপীয় শিবিরে। এর ফলে আগামী ফিফা নির্বাচনে উয়েফার সমর্থন পাচ্ছেন না ইনফান্তিনো। নিজের চেয়ার না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়ন তাঁর পক্ষে কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরেকটি বিষয় হলো এশিয়ার দলগুলোর দুর্বল পারফরম্যান্স। আফ্রিকার ১০ দলের ৯টি পরের পর্বে উঠলেও এশিয়ার ৯ দলের মধ্যে মাত্র দুটি—অস্ট্রেলিয়া ও জাপান—টিকে ছিল। মূল এশীয় ভূখণ্ডের দলগুলোর ব্যর্থতা ফুটবলের বৈশ্বিক প্রসারে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই বাস্তবতায় ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পথ কতটা মসৃণ, তা নির্ভর করছে ফিফার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।