কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এই অভিযানে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইমাম হোসেন ওরফে মিন্টু (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে কেরুনতলীসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ছয়টায় অভিযান শুরু হয়। শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালী স্টেশনের সদস্যরা এই অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানে ইমাম হোসেনের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি একনলা বন্দুক, নয়টি পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৩২টি গুলি, চারটি খালি কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন লিটার দেশীয় মদ এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোস্টগার্ডের দাবি, হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহ, জলদস্যুতা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোষ্ঠীটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র তৈরির একাধিক ভ্রাম্যমাণ কারখানার অস্তিত্ব রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে র্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের অভিযানে কয়েকটি কারখানা উচ্ছেদ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান অভিযানটি সেই ধারাবাহিকতায় আরও একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।