ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জনপ্রিয় অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত, যিনি ‘গজনি’ সিনেমায় ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকমনে দাগ কেটেছিলেন, তিনি আর নেই। গত ৪ আগস্ট, মাত্র ৭৪ বছর বয়সে, রক্তের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রদীপ রাওয়াতের শেষ দিনগুলো ছিল অত্যন্ত কষ্টের। তাঁর ছেলে বিক্রমাদিত্য রাওয়াত বাবার মৃত্যুর পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন কিছু তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন প্রদীপবাবু সাধারণ পেটের সংক্রমণে ভুগছেন। চিকিৎসকেরাও একই রকম সম্ভাবনা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওষুধ খেয়েও যখন কোনো উন্নতি হলো না, তখন রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। বিক্রমাদিত্যের ভাষ্যমতে, পরীক্ষায় দেখা যায় তাঁর শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গেছে। তখনই তাঁকে কোকিলাবেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা ৯৯ শতাংশ সম্ভাবনা প্রকাশ করেন যে এটি ব্লাড ক্যানসার। পরের দিন পরীক্ষার মাধ্যমে সেই আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়।
মাত্র দুই মাস আগেও প্রদীপ রাওয়াতের সব রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তাঁর ছেলে। তাই হঠাৎ এই রোগ ধরা পড়ায় পুরো পরিবার স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগের দিন (গত মঙ্গলবার) তাঁর প্লাটিলেট সংখ্যা নেমে মাত্র ৩ হাজারে দাঁড়ায়। স্বাভাবিক অবস্থায় যা ৩ লাখের বেশি হওয়ার কথা। আইসিইউর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি চিকিৎসকদের সিপিআর দিতে দেখে বুঝে ফেলেন কী হতে চলেছে। বিক্রমাদিত্যের চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, ‘তারপর মা কাঁদতে শুরু করেন। সব শেষ হয়ে গেল।’
বাবার প্রতি চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিক্রমাদিত্য। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, বাবা এখন আরও ভালো জায়গায় আছেন। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এত মানুষ এসেছেন, দেখে তিনি নিশ্চয়ই খুশি হতেন।’ বুধবার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় বিক্রমাদিত্য নিজেকে সামলে রাখতে চাইলেও বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। অভিনেতার স্ত্রী কল্যাণী রাওয়াতও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রদীপ রাওয়াত ভারতীয় চলচ্চিত্রে শক্তিশালী খলচরিত্র ও চরিত্রাভিনেতা হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছিলেন। ‘সরফরোশ’, ‘লগান’, ‘সিয়ে’, ‘নায়ক’ এবং ‘গজনি’-র মতো বহু আলোচিত ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সালমান খান। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘তোমার সঙ্গে অনেক সুন্দর স্মৃতি রয়েছে, ভাই। শান্তিতে থেকো।’ শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন আমির খান এবং ‘লগান’-এর পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর-সহ চলচ্চিত্র জগতের আরও অনেকে। তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী কল্যাণী রাওয়াত ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে।




