লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ২-১ গোলের হার দিয়ে থিবো কোর্তোয়া ও বেলজিয়ামের এবারের বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি ঘটল। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে মাঠ ছাড়ার সময় বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষকের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। ৩৪ বছর বয়সী কোর্তোয়া হয়তো অনুভব করছিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই তাঁর শেষ উপস্থিতি। তবে এই বিদায়ের পেছনে একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাঁর মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাটিই।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি দীর্ঘ কিক নেওয়ার সময় কোর্তোয়া তাঁর উরুর সামনের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন। এরপরও তিনি কয়েকটি শট প্রতিহত করলেও পুনরায় লং কিক নেওয়ার মুহূর্তে যন্ত্রণা তীব্র হয়। তারপরও তিনি খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন। ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া ব্যাখ্যা করেন, গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকতে তাঁর কোনো সমস্যা না থাকলেও লং কিকে অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া শেষ পর্যন্ত তাঁকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য কোর্তোয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। দলের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে কোচের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া জানান, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আমার নীতি ছিল সম্পূর্ণ ফিট নয়—এমন কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে না নামানো। কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও সেই নিয়মই প্রয়োগ করা হয়েছে।’

কিন্তু পরিস্থিতির নির্মম বাস্তবতা হলো, কোর্তোয়ার স্থলে নামা ২৪ বছর বয়সী বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্সই পরবর্তীতে দলের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ান। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই গোলকিপারের এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম উপস্থিতি। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে পাউ কুবারসির একটি শট সঠিকভাবে গ্রিপ করতে ব্যর্থ হন লামেন্স। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গোল করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া অবশ্য সতীর্থ গোলরক্ষকের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ওই পরিস্থিতিতে আমি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু করার ছিল না। ও একজন দারুণ গোলকিপার এবং এই কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।’ কিন্তু লামেন্সের জন্য এই শিক্ষাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কেননা তার ভুলেই দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোর্তোয়া জানান, তিনি আগামী এক বছর বেলজিয়াম জাতীয় দলের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলতে চান না। এই বিরতির পর তিনি ২০২৮ সালের ইউরো বাছাইপর্ব এবং মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী, যদিও এ বিষয়ে বেলজিয়াম ফেডারেশনের সম্মতি আছে কি না তা তিনি জানেন না। কোর্তোয়ার এই ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোচ গার্সিয়া স্বীকার করেন যে তিনি কিংবা দলের অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ভবিষ্যতে কোর্তোয়া আদৌ পরবর্তী বিশ্বকাপে ফিরবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।