কুষ্টিয়া মডেল থানায় জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজা ও তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনায় এবং গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন আজ মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে ওসি জানান, গতকাল সোমবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে সংসদ সদস্য আমির হামজার ব্যক্তিগত সহকারী মোমিন বিশ্বাস বাদী হয়ে দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে। অন্যদিকে, রাত ১২টা ১০ মিনিটে গণ অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন হোসেনের দেওয়া এজাহারটিও মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। তবে দুই মামলার কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে মোমিন বিশ্বাস তাঁর এজাহার থানায় জমা দেন। একই দিন দুপুরে রুমন হোসেনও একটি এজাহার জমা দেন। মোমিন বিশ্বাসের করা মামলায় গণ অধিকার পরিষদের ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। রুমন হোসেনের মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে। শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয় রাস্তার মোড়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আমির হামজা এই হামলার জন্য গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গণ অধিকার পরিষদ নিয়ে আমির হামজা একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে প্রতিবাদ সভা করে গণ অধিকার পরিষদ। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে আমির হামজা নিজ গাড়িতে করে মোড় হয়ে পাশেই তাঁর বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সমাবেশ থেকে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। আমির হামজার গাড়ির সামনে-পেছনে তখন পুলিশের একাধিক গাড়ি ছিল।
ছয় রাস্তার মোড় অতিক্রমের সময় গণ অধিকার পরিষদ ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পাল্টাপাল্টি স্লোগানও চলতে থাকে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে নিয়ে যান। গাড়িটিও তাদের পেছন পেছন যায়। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে ইটের আঘাতে আমির হামজার গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। গাড়ির আরও কয়েকটি অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে আমির হামজার সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এরপর তারা মিছিল নিয়ে ছয় রাস্তা মোড়ের পাশে হরিপুর সংযোগ সেতুর নিচে গিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। গণ অধিকার পরিষদের অভিযোগ, এ সময় জামায়াত-শিবিরের লোকজন তাদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে।




