দেশে চলমান গ্যাস সংকটের ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে অকপটে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় একটি কৃষি বিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান এই সংকটকে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের উত্তরাধিকার হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
দেশের বর্তমান গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভূগর্ভ থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে মোট সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিভিন্ন মিল-কারখানা এবং নতুন সংযোগের যে বিপুল চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় এই সরবরাহ অর্ধেকেরও কম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘাটতি মেটানোর প্রধান উপায় হিসেবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকার এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্যে বাপেক্স এবং এর অধীনে থাকা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঠিক কতটুকু গ্যাস পাওয়া যাবে এবং তা কবে নাগাদ সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আগ্রহী হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচ দিয়ে পাইপলাইন বসানোর মতো কারিগরি কাজগুলো সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে পেট্রোনাসের জাহাজগুলো অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না, যা সমাধানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, গত ৫ থেকে ১০ দিনে দুটি এফএসআরইউ-এর একটিতে সরবরাহ সমস্যা এবং অন্যটির বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সংকটের তীব্রতা বেড়েছে। তবে ইতিমধ্যে একটিতে গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে এবং অন্যটির একটি বয়লার মেরামত করা হয়েছে; বাকিটির কাজ চলছে। দুটি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি এক মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া গরমের মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নে পূর্ববর্তী বছরগুলোর একই সময়ের লোডশেডিং ও চাহিদার পরিসংখ্যান বিবেচনা করা প্রয়োজন।




