রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার দুটি বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় এবং ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বিদ্যালয় দুটির পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়, কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় তাদের কেউই পাস করেনি। অথচ গত বছর একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জনই উত্তীর্ণ হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার অর্ধেকের বেশি থেকে শূন্যে নেমে আসায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ৯ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ১৮ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস না করার কারণ খতিয়ে দেখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোনো ঘাটতি ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং কারও গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়টি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এ বিষয়ে কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে পরে কথা বলার আশ্বাস দিয়ে ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে, ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের অবস্থাও একই রকম। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এই বিদ্যালয়টিতে মাত্র চারজন শিক্ষক আছেন। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ২০২৫ সালে ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন পাস করেছিল, এবার তা শূন্যে নেমে আসায় শিক্ষকসংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান। তিনি বলেন, এবার শিক্ষার্থীরা কিছুটা দুর্বল ছিল এবং নতুন এমপিওভুক্ত হওয়ায় মাত্র চারজন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা একটি বড় সমস্যা। তিনি আশাবাদী যে আগামীতে তারা ভালো ফল করবেন।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শুধু পরীক্ষার সময় ভালো ফল প্রত্যাশা করলে চলবে না। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে কি না, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কি না—এই বিষয়গুলোতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের মতে, ৯ জন শিক্ষক থাকার পরও সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করা যাবে না। শিক্ষকতা, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা—সামগ্রিক শিক্ষা পরিবেশের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা উচিত।

পীরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শোকজ করা হবে। এছাড়া তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলী নমিরুল দাখিল মাদ্রাসায়ও এবার ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। মাদ্রাসাটিতে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৪ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী রয়েছেন। তারাগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, বিধি মোতাবেক এই মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।