কথিত উগ্রবাদী তৎপরতা ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক তরুণ তাহসীন ইসলামকে (১৯) জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। শুক্রবার বিকেলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের এজলাসে শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত আসে। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক আসামিকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করলেও বিচারক তা মঞ্জুর করেননি।

বেলা পৌনে চারটার দিকে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে তাহসীনকে কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই শুনানি আরম্ভ হয়। রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ফাতাহ কমব্যাট সংগঠনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য।

নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তাহসীন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং জানান, তার আর কিছু বলার নেই। আদালত তার আইনজীবী আছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘না’ বলে উত্তর দেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাহসীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে, আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাহসীন আলোচিত ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)’ নামের সংগঠনটির সদস্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ এ-ও নিশ্চিত করেছে যে, যশোর অঞ্চলে সংগঠনটির কোনো সক্রিয় সদস্য বা সাংগঠনিক কাঠামো নেই।

গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে। যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রাত ৯টার দিকে তাহসীনের নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি চাপাতি এবং বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগে তাহসীনের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকে একটি মামলা বিদ্যমান থাকায় এই আটক অভিযান পরিচালিত হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি মামলার তথ্য রয়েছে। তাহসীন এফসিএস-এর সদস্যপদ স্বীকার করার পর রাতেই তাকে সিটিটিসি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।