কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় একটি কবরস্থানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। হাজিরহাট ও বালুরচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্ট এই দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতিতে প্রায় শতাধিক পরিবারকে সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো দোকানদার যেন ওই পরিবারগুলোর কাছে কোনো পণ্য বিক্রি না করে। এই নির্দেশ অমান্য করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দুই বছর আগে, যখন হাজিরহাট ও বালুরচর গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে একটি কবরস্থানের জায়গা নিয়ে বিবাদ দেখা দেয়। পরবর্তীকালে এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে, যাতে কয়েকজন আহত হন। সম্প্রতি সেই বিরোধের মীমাংসার জন্য একটি গ্রাম্য সালিসের আয়োজন করা হয়। সালিসে প্রায় দুই হাজার লোকের উপস্থিতিতে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—যে গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কবরস্থান দখলের অভিযোগ রয়েছে, তাদের শতাধিক পরিবারের সঙ্গে কোনো প্রকার সামাজিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন না করতে।

হাজিরহাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ জানান, গ্রামবাসীর সম্মতিক্রমেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। হাটের বণিক সমিতির সভাপতি হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা আমি দিতে পারি না, আবার এলাকাবাসীর সম্মতিতে দিতেও পারি।’ তবে স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বণিক সমিতির ইজারাদার ও নেতাদের নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানার ভয়ে তারা এই নির্দেশ মেনে চলছেন।

এক ভুক্তভোগী, আক্তার হোসেন, বলেন, ‘আমরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বাড়ির বাইরে বের হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন ভয়ভীতি দেখায়।’ এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই হাজিরহাট এলাকার একটি ভুক্তভোগী পরিবার রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এবং রৌমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী জানান, তিনি এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তিনি বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বণিক সমিতির লোকজনকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তাদের ওপর থেকে এই সামাজিক বর্জন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রকৃত ন্যায়বিচার পাবে না।