ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্র (আইআইইসি) আয়োজিত ‘উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ২০২৬’ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। গত ১ ও ২ আগস্ট শনি ও রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের আয়োজনে মোট ৩৭০ জনের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, গবেষণাভিত্তিক ধারণা এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপনের সুযোগ পান। মোট ১০টি বিভাগে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ছিল প্রকল্প প্রদর্শনী, গবেষণা পোস্টার উপস্থাপন, লাইন অনুসরণকারী রোবট, সকার রোবট, রেসিং রোবট, ট্রাস ডিজাইন প্রতিযোগিতা, ভূমিকম্প-সহনশীল কাঠামো নির্মাণ (সিসমিক), সফটওয়্যার উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা (হ্যাকাথন), ব্যবসায়িক কেস বিশ্লেষণ এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন।
প্রকল্প প্রদর্শনী বিভাগে ‘এগ্রি স্পার্ক’ চ্যাম্পিয়ন হয়, গবেষণা পোস্টার উপস্থাপনায় ‘সোলার সোলস’, ট্রাস ডিজাইন প্রতিযোগিতায় ‘জেন সিভিল’, ভূমিকম্প-সহনশীল কাঠামো নির্মাণে ‘লিংক স্পেস’, সকার রোবট বিভাগে ‘এএইচ ফাইটার’, লাইন অনুসরণকারী রোবট বিভাগে ‘নেক্সট জেন রোবোটিকস’, রেসিং রোবট প্রতিযোগিতায় ‘এএইচ রোভার’, ব্যবসায়িক কেস বিশ্লেষণে ‘অ্যাসেট ক্লাস’, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনায় ‘সোলার সোল’ এবং সফটওয়্যার উদ্ভাবন (হ্যাকাথন) প্রতিযোগিতায় ‘ওয়েব জারএক্স’ প্রথম স্থান অর্জন করে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সবাইকে সনদপত্র ও স্মারক উপহার দেওয়া হয়। বিজয়ী দলগুলোকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সর্বমোট ৭৫ হাজার টাকা সমমূল্যের পুরস্কার প্রদান করা হয়। আইইউবিএটির উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্রের (আইআইইসি) পরিচালক নাঈম হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আইইউবিএটি গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই বৃদ্ধি করে না; বরং নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগও সৃষ্টি করে।’
উদ্ভাবন প্রতিযোগিতাটির ধারণা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্রের বার্ষিক মিলনমেলা, প্রাক্তন সদস্যদের পুনর্মিলনী এবং বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির সংবর্ধনারও আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো।

