সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জুলিয়াস বেয়ার গ্রুপের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলাসী জীবনযাপনের ব্যয়ের দিক থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে সিঙ্গাপুর। এই প্রতিবেদনে ২০ ধরনের বিলাসপণ্য ও সেবার মূল্য বিশ্লেষণ করে ২৫টি বৈশ্বিক শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের তালিকায় জুরিখ শহর তিন ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যেখানে গতবারের অবস্থান ছিল লন্ডনের পরে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সুইস মুদ্রা ফ্রাঁর শক্তিশালী অবস্থান এবং অনিশ্চিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সুইস ফ্রাঁর প্রতি বর্ধিত আস্থা জুরিখের এই উল্লম্ফনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, ২০২০ সালে জরিপ শুরুর পর এই প্রথম শীর্ষ তিনে স্থান করে নিয়েছে মোনাকো। তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে হংকং ও লন্ডন।
জুলিয়াস বেয়ারের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান গ্যাটিকার মতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চয়তার মাত্রা বেশি। এমন পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল শহর ও দেশগুলো উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সিঙ্গাপুরের শীর্ষস্থান ধরে রাখার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশটির আবাসন ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতি উচ্চ মূল্য, যে দুই খাত সূচকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরি ডলারের উচ্চ বিনিময় মূল্যও এক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উঠে এসেছে, গত এক বছরে অতি সম্পদশালী ব্যক্তিদের উচ্চমানের জীবনধারণের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ডলারের হিসাবে এ বছরের সূচক গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে গয়নার দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ঘড়ির দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
শক্তিশালী অস্ট্রেলীয় ডলার এবং ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে আমদানি-নির্ভর বিলাসপণ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় সিডনি ছয় ধাপ অগ্রসর হয়ে অষ্টম স্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, দুবাই ১৪তম স্থানে নেমে এসেছে, তবে জুলিয়াস বেয়ার স্পষ্ট করেছে যে শহরটি আগের চেয়ে সস্তা হয়নি; বরং অন্যান্য শহরের ব্যয় আরও দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ায় এর অবস্থান পিছিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, সূচকের তথ্য সংগ্রহের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কারণ ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই এই জরিপের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছিল।
তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো শহর শীর্ষ ১০-এ স্থান পায়নি। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য হ্রাস, যদিও স্থানীয় বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে উত্তর আমেরিকায় সম্পদ সঞ্চয়ের চিত্র ইতিবাচক; জরিপে অংশ নেওয়া উচ্চ সম্পদশালীদের ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরে তাদের সম্পদের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের মালিক ৩৬০ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়।




