বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভায় আলোচিত হয়েছে মাদক প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকা। গত ২৫ জুন প্রথম আলোর কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় পরামর্শ দেন শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ। সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’।
সভায় ডা. হেলাল আহমেদ বলেন, মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, চিকিৎসক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের ভূমিকা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ থাকে কিশোর বয়সীদের নিয়ে, যারা ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে ভুল করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবার যদি সন্তানের শুধু জিপিএ বা পরীক্ষার ফলাফলের পেছনে না ছুটে তার সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক বিকাশে মনোযোগ দেয়, তাহলে পরবর্তী জীবনে মাদক গ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
একজন শিশু-কিশোর মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. হেলাল আহমেদ বলেন, সরবরাহ কমানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, ক্ষতি কমানোর জন্য চিকিৎসকদের ভূমিকা আছে, আবার সচেতনতার জন্য শিক্ষকদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে মুখ্য। পরিবার যদি বৈজ্ঞানিক উপায়ে মানসিকভাবে সক্রিয় ও সচেতন হয়, তাহলে মাদকাসক্তির মতো মরণব্যাধি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সভায় উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে ডা. হেলাল আহমেদ আরও বলেন, শিশুর উজ্জ্বল ও সুষম বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবারকে অবশ্যই সামাজিক দক্ষতার বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, যে পরিবারে একটি শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশ সুন্দরভাবে হয়, সেখানে পরবর্তীতে মাদক গ্রহণের প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। তিনি পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা সন্তানদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সঠিক পথ বেছে নিতে সহায়তা করে।




