চলতি অর্থবছরের মধ্যে দেশের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালমাটিয়া এলাকায় সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য দেন। সেখানে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বাজেট দিয়েছে এবং চলতি অর্থবছরের বাজেটেও এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগস্টের পর অর্থ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ বৈঠকে কোন নির্বাচন আগে ও কোনটি পরে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান মীর শাহে আলম।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের তুলনায় সিলেট নগরী বেশি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, খাল খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সিলেট সিটি করপোরেশন অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প শুরু হয়, যা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে বর্জ্য শুকানোর (বায়ো ড্রাইং) যন্ত্র স্থাপন করা হলে বর্জ্যের আর্দ্রতা কমিয়ে তা পৃথকীকরণ সম্ভব হবে। পরবর্তীতে প্লাস্টিক অংশ লাফার্জহোলসিম নিজেদের কারখানায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং অবশিষ্ট অংশ দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, তাঁর দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার রায় হয়েছে। তিনি যেভাবেই দেশে আসুক না কেন, আসার সঙ্গে সঙ্গেই আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট–৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব রবিউল ইসলাম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিটি করপোরেশনের সচিব আশিক নূর, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



