মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে। ইউরোপের অন্যতম প্রধান বাজেট এয়ারলাইন রায়ানএয়ার তাদের চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে মুনাফায় ৩৪ শতাংশের মতো পতন দেখেছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সময়ে গ্রাহকদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আগাম বুকিং না করে অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। ফলে খরচের তুলনায় আয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যে, শুধু রায়ানএয়ার নয়, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু বিমান সংস্থা এখন 'কঠিন শীত' মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে শীত মৌসুমে ভ্রমণের চাহিদা আরও কমে যেতে পারে। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ইতিমধ্যেই অনেক এয়ারলাইনের বাজেট পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছেদ এনেছে।

রায়ানএয়ারের নির্বাহীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ ও ফ্লিট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে তারা আরও রক্ষণশীল পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হবেন। এই ঘোষণার পর ইউরোপের স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের দামেও কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের অবসান না হওয়া পর্যন্ত বিমান খাতের পুনরুদ্ধার ধীরগতির হবে এবং ছোট ও মাঝারি এয়ারলাইনগুলোর জন্য টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।