ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে কমিউনিটিগুলো আরও ভালো সহযোগী দাবি করছে, এবং এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন করে বড় আকারের প্রকল্প স্থগিত বা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক সম্প্রতি বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে দেশের প্রথম রাজ্যব্যাপী মোরেটোরিয়াম আরোপ করেছে। মেইন থেকে জর্জিয়া পর্যন্ত রাজ্য পরিষদগুলোতে এ ধরনের প্রকল্প জব্দ বা সীমিত করার বিল উত্থাপিত হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজস্ব মতামতে কম্পাস ডাটাসেন্টার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ক্রসবি বলছেন, কমিউনিটির সংশয়বাদের পেছনে কিছু বাস্তব কারণ আছে। অনেক উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান জনসম্পৃক্ততাকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখেছে, প্রকৃত অঙ্গীকার হিসেবে নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, একটি ডেটা সেন্টার এমনভাবে নির্মাণ করা উচিত যেন মনে হয় আপনাকে পাশেই থাকতে হবে, কোনো অনুমতি সেরে নেয়ার মত নয়।

ক্রসবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডেটা সেন্টার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করলে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি ইন্টারনেটবিহীন জীবনের একটি চিত্র তুলে ধরেন যেখানে বন্ধকি পরিশোধ থেকে শুরু করে জরুরি স্বাস্থ্য তথ্য প্রাপ্তি বা ৯১১ কল পর্যন্ত সবকিছু অচল হয়ে যেতে পারে। ক্রসবি মন্তব্য করেন, "ডেটা সেন্টারগুলি ব্যাংকিং, হাসপাতালের রেকর্ড, জরুরি যোগাযোগ, ক্লাউড সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা চালনা করে। পুরোপুরি এগুলি বাদ দেয়া কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প নয়।" তার মতে, মূল প্রশ্ন হলো ডেটা সেন্টার নির্মাণ হবে কিনা তা নয়, বরং কারা সেগুলো নির্মাণ করবে তার ওপর কমিউনিটি আস্থা রাখতে পারবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিশ্বাস নির্মাণ শুরুর আগেই অর্জন করতে হবে। তা আসে স্বচ্ছতা, নিয়মিত যোগাযোগ এবং সময়ের সঙ্গে যাচাইযোগ্য অঙ্গীকারের মাধ্যমে। কমিউনিটির উচিত হবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং উন্নয়নকারী সংস্থার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইনের খরচ নিজে বহন করবে, সেই খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপাবে না; পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকবে এবং নির্মাণ শেষে অনেক দিন পরও তাদের জবাবদিহি বজায় থাকবে।

ক্রসবি দাবি করছেন, “সব ডেটা সেন্টার উন্নয়নকারী একই রকম নয়, এবং এই পার্থক্যটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।” তিনি একটি বাড়ির সঙ্গে তুলনা দেন—একটি বাড়ি দ্রুত বিক্রির উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা নয়, আরেকটি বাড়ি তাতে দীর্ঘদিন থাকার উদ্দেশে নির্মাণ করলে প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই ভিন্নতা আসে। তিনি মেয়র, গভর্নর বা রাষ্ট্রপতি কঠোর মানদণ্ডের দাবি জানালে তাকে সমর্থন করেন এবং সবাইকে একই মানদণ্ডে মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

তার পরামর্শে, যে কোনো ডেটা সেন্টার উন্নয়কর্তা যেন শহরে আসার সময় একটি নির্দিষ্ট ‘সাক্ষাৎকার’ প্রত্যাশা করে। এতে পাঁচটি মূল প্রশ্ন থাকবে: গ্রিড ও ট্রান্সমিশন আপগ্রেডের খরচ কে দেবে এবং পানি সরবরাহের উৎস কী? নির্মাতা কি দশকের পর দশক ধরে প্রকল্পটির মালিকানা ও পরিচালনা করবে, নাকি অনুমোদন পাওয়ার পর বিক্রি করে দেবে? উন্নয়নকারীর প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাধ্যতামূলক এবং নির্মাণকালীন ঝামেলার জন্য কে দায়ী থাকবে? স্থানীয় কর্মীসংস্থান, কমিউনিটি ও আর্থিক সুফল আসলে কী, আর তা কখন দেখা যাবে? উন্নয়নকারী কি আগে কখনো এই ধরনের প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনা করেছে এবং যে কমিউনিটিতে আগে কাজ করছেন সেখানে ফোন দিয়ে খোঁব নেওয়া যাবে?

ক্রসবি উপসংহারে বলেছেন, আমেরিকার ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে ডেটা সেন্টার নির্মাতা কম্পানিরা নির্মাণ শুরু করার আগে আস্থা অর্জন করতে পারছে কিনা, নির্মাণকালে তা বজায় রাখছে কিনা এবং সময়ের সাথে প্রমাণ করতে পারছে কিনা যে প্রকল্পের মূল্যায়নে আয়োজক কমিউনিটিও অংশীদার। তিনি কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞেস কর, প্রমাণ দাবি করা এবং প্রতিটি উন্নয়নকারীকে তাদের নির্মাণ কৌশল, অর্থায়ন, যোগাযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সততা নিয়ে পরিমাপ করার আহ্বান জানান। তার মতে, প্রশ্ন হলো আমেরিকা ডেটা সেন্টার নির্মাণ করবে কিনা তা নয়, বরং কমিউনিটি কার উপর ভরসা করে এসব নির্মাণ করবে। প্রতিটি উন্নয়নকারীকে সেই মানদণ্ডে যাচাই করুন।