খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক আটকের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী প্রশ্ন তুলেছেন, কে ডনকে এত দিন প্রশ্রয় দিয়ে আসছিল। সোমবার বিকেলে প্রথম আলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্য থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কলেজে তিনি বলেন, কেন এসব কথা সামনে আসছে না, কেন ডিপজলকে বলে দিতে হচ্ছে যে ডন বিদেশে চলে যাচ্ছে। ডনের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের কথাও সামনে আনা হোক।

রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন ডন হক। সালমান শাহ হত্যা মামলার এ আসামি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। নীলা চৌধুরী বলেন, এই ডন তাকে হুমকি দিয়েছে, তার ও তার ছেলের সম্পর্কে নানা কথা বলে। আইনকে সে যা ইচ্ছা তা-ই মনে করে, পরোয়া করে না। তা না হলে কেন সে আসামি হয়েও নানা আয়োজনে থাকত? কেন সে বড় বড় কথা বলত?

গত এক বছরে ঢাকা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন স্থানে ডনকে দেখা গেছে। সব সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন তিনি। এত দিন কেন ডন গ্রেপ্তার হননি, তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সালমান শাহর মা বলেন, তার প্রত্যাশা ছিল ছেলের হত্যার বিচার পাবেন, আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে। সেটা হয়নি। এখনো মূল আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার একটাই চাওয়া, কোনোভাবেই যেন ডন জামিন না পায়। সে ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িত, তার শাস্তি পেতেই হবে।

কথা বলতে বলতে ভেঙে পড়েন নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন, ডন সব সময় বলে এসেছে সালমান তার বন্ধু, কিন্তু এ কথা সঠিক নয়। সে কীভাবে তার ছেলের বন্ধু হয়? ইমন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, আমাদের বাসায় মাঝেমধ্যে থাকত। পরে দেখা গেল, তারা ভালো নয়, তখন ডনকে বের করে দেওয়া হয়। সামিরাও ছিল একই রকম। এদের কারও ভালো উদ্দেশ্য ছিল না। এখনো তার মনে আছে, ডন ইমনের জামাকাপড় পরত, টাকাও নিত। এই বিশ্বাসঘাতকেরা কখনোই স্বার্থ ছাড়া কারও বন্ধু হয় না।

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা রয়েছে। মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মায়ের পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। নীলা চৌধুরী জানান, তারপর থেকে নানাভাবে ডন তাদের হুমকি দিত। গত বছর সেপ্টেম্বরে ডন তাকে হুমকি দিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে যেতে বলেছে। তিনি বলেন, যে আমার ছেলের পিছনে পিছনে ঘুরত, আমাদের সঙ্গে কথা বলার সাহস পেত না, সেই ডন কত বড় ব্যাকআপ থাকলে আমাকে হুমকি দিতে পারে!

নীলা চৌধুরীর মতে, ডনদের হাত লম্বা হয়েছে, তাদের কেউ না কেউ প্রশ্রয় দিচ্ছে। গত বছর হত্যা মামলা দায়ের করার পরেও কেউ ধরা পড়েনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডনকে প্রশ্রয় দেয় কে? ডিপজলকে কেন বলে দিতে হয়? ডিপজল কেন বলবে সে বিমানবন্দরে? আগে থেকেই তো এরা চোখের সামনেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে, যে কারণে সাহস বেড়েছিল। অবশ্যই ডনকে কেউ আশ্বস্ত করেছিল, তাকে বিমানবন্দর দিয়ে পার করতে চেয়েছিল। তিনি আইনের কাছে চান, ডন যেন কোনোভাবে ছাড়া না পায়। তাকে রিমান্ডে নিলে সব বের হয়ে আসবে।

মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। নীলা চৌধুরী আরও বলেন, এখনো আসামিরা বড় বড় কথা বলছে। প্রধান আসামি সামিরাসহ সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়, এরা চারপাশেই আছে। তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে।