চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন পর্দায় ৫০ বছরের বেশি বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের আরও খাঁটি ও বাস্তবসম্মত উপস্থাপনার দাবি জোরালো হয়েছে। মার্কিন সংস্থা এএআরপি পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রাপ্তবয়স্ক কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই এই বয়সী নারীদের পর্দায় দেখতে চান। তবে এই দাবির সঙ্গে সঙ্গে একটি হতাশার চিত্রও প্রকাশ পেয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়াদের মধ্যে মাত্র এক-চতুর্থাংশের মতো মনে করেন, বর্তমানে পর্দায় কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত।
গবেষণাটির ফলাফল বলছে, কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের দর্শকরা শুধু উপস্থিতিই নয়, বরং চরিত্রগুলোর জীবনের বিভিন্ন স্তরের খাঁটি প্রতিফলনও প্রত্যাশা করেন। যারা পর্দায় এই নারীদের প্রতিনিধিত্ব দেখতে চান, তাদের একটি বিশাল অংশই মনে করছেন, বর্তমান চিত্রায়ণে অনেক কিছু বাদ পড়ছে বা বিকৃত হয়ে দেখানো হচ্ছে। খবরটি সোমবার প্রকাশিত হয় এবং ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এএআরপির এই গবেষণাটি মূলত মিডিয়া ও বিনোদন শিল্পে বৈচিত্র্যের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিল। সংস্থাটির দাবি, ৫০ বছর বয়সের পরেও কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গল্প বলার মতো অনেক কিছু আছে, কিন্তু পর্দায় সেই গল্পগুলো তেমন একটা গুরুত্ব পায় না। জরিপে অংশ নেওয়া নারী ও পুরুষ উভয়েই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ বদলেছে, কিন্তু পর্দার উপস্থাপনা সেই বদলের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জরিপের ফলাফল মিডিয়া নির্বাহী এবং প্রযোজকদের জন্য একটি জাগরণের বার্তা। কারণ, কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা শুধু দর্শকই নন, তারা ভোক্তা এবং গল্পকারও। তাদের দাবি পূরণ করতে না পারলে শিল্পটি এক বিশাল অংশের দর্শকদের আস্থা হারাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সঠিক ও খাঁটি উপস্থাপনার অভাবে নতুন প্রজন্মের কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েরাও পর্দায় নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছে না, যা একটি সামাজিক সংকটও বটে।
এদিকে, এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিনোদন জগতের একাংশ মনে করছেন, ধীরে ধীরে হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন আসছে। তবে এএআরপির জরিপটি সেই ধীর গতির বিপরীতে দ্রুত ও কার্যকরী পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাই আরও প্রকট করে তুলল।




