রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণে জরিপ পরিচালনা করে হ্রদের অভ্যন্তরে অবস্থিত অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম ও ঠিকানা সংবলিত একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার এই আদেশ জারি করে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে যৌথভাবে এ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কাপ্তাই হ্রদের প্রকৃত মানচিত্রের ভিত্তিতে সীমানা জরিপ করে হ্রদের সীমানার ভেতরে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনার মালিকদের তালিকা তৈরি করতে হবে। এই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৬ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এর আগে ২০২২ সালে ‘সবাই মিলে কাপ্তাই হ্রদ দখল’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা আমলে নিয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ওই বছরের ১৬ অক্টোবর একটি রিট আবেদন করে। হ্রদে অবৈধ দখল বন্ধ, সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশে কাপ্তাই হ্রদে যেন আর কোনো মাটি ভরাট বা নির্মাণকাজ না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। একইসঙ্গে হ্রদের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয় রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে। তবে সেই জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় চলতি মাসে গত বৃহস্পতিবার সম্পূরক একটি আবেদন করে এইচআরপিবি।

সম্পূরক আবেদনের শুনানিতে আদালতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আবেদনের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। শুনানি শেষে আদালত ওই নির্দেশনা প্রদান করে।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ২০২২ সালে আদালত রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে কাপ্তাই হ্রদের সীমানা জরিপ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন। জেলা প্রশাসক হলফনামার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে জরিপ পরিচালনার জন্য জরিপ অধিদপ্তরের সহায়তা প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে হ্রদের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের অনুরোধ জানিয়ে সম্পূরক আবেদন করা হয়েছিল। এবারের আদেশে চার মাসের মধ্যে হ্রদের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ শেষ করে অবৈধ স্থাপনা মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।