ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য এক দিনের সময়সীমাকে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার খসড়াটি প্রকাশের পর ২৮ জুলাইয়ের মধ্যেই মতামত চাওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। টিআইবির দাবি, অংশীজনদের কাছ থেকে কার্যকর মতামত নিতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। প্রস্তাবিত আইনটি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার সেই অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করিয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। নতুন খসড়ায় ‘সুরক্ষা’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, অধ্যাদেশে গুমের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে সেই দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, খসড়ায় কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে— যেমন গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি ও চলমান অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা, এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অজুহাতে গুমকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা। তবে মাত্র এক দিনের সময়সীমা সরকারের প্রকৃত সদিচ্ছার অভাবকে প্রকাশ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভুক্তভোগী ও অন্যান্য অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের ব্যাপারে এই দ্রুততা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে টিআইবি।

অন্যদিকে, তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে অর্পণ করায় নিরপেক্ষতা ও নির্মোহ তদন্তের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, অধস্তন একজন তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ তৈরি ও দাখিল করা বাস্তবে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবার মতামত নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে এবং সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে তা পাস হতে পারে। টিআইবি সময় বাড়ানোর পর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় খসড়াটি ঢেলে সাজানোর সুপারিশ জানিয়েছে।