যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারাগার ব্যবস্থায় যৌন অপরাধে দণ্ডিত বন্দীদের বিরুদ্ধে এক ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি চালু রয়েছে বলে জানা গেছে। ফেডারেল বুরো অব প্রিজনসের (বিওপি) নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, এই শ্রেণির বন্দীদের জন্য ইমেইল যোগাযোগের সুযোগ সীমিত বা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই নীতি কেবলমাত্র বৈষম্যমূলকই নয়, বরং বন্দীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কারাগারে বন্দীদের পরিবার ও বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য ইমেইল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বিওপির নিয়ম অনুযায়ী, যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। বন্দী অধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই নীতির বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, এই ধরনের নীতি বন্দীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং তাদের সমাজে পুনরায় ফিরে আসার পথকে আরও কঠিন করে তোলে।

একজন প্রাক্তন বন্দী বলেন, 'আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ইমেইল। কিন্তু যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার কারণে সেই সুযোগটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এটি শুধু শাস্তি নয়, বরং এক ধরনের মানসিক নির্যাতন।' আরেকজন বন্দী অধিকার কর্মী জানান, 'বিওপির এই নীতি কোনো যৌক্তিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির বন্দীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করছে।'

বন্দীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থা ইমেইলসহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছে। তাদের মতে, কারাগারে বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার সুযোগ থাকলে তাদের পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে বিওপির এই নীতি সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এ বিষয়ে বিওপির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই বৈষম্যমূলক নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ বাড়ছে। বন্দী অধিকার সংগঠনগুলো আদালতে বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

সামগ্রিকভাবে, যৌন অপরাধে দণ্ডিত বন্দীদের ইমেইল সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার এই নীতি কারাগারের ভেতরে বৈষম্য এবং পুনর্বাসনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে বন্দীদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।